মঙ্গলবার, ১৯-নভেম্বর ২০১৯, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন
  • জাতীয়
  • »
  • বোরহানউদ্দিনে মানুষকে সমবেত করার উদ্দেশ্য কী, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

বোরহানউদ্দিনে মানুষকে সমবেত করার উদ্দেশ্য কী, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

shershanews24.com

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ১০:০৭ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা: ফেসবুক স্ট্যাটাসকে ঘিরে ভোলায় যে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনাকাঙিক্ষত এ ঘটনার জন্য সবাইকে ধৈর্য্য ধারনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
রবিবার গণভবনে যুবলীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভোলার বোরহানউদ্দিনে একটি হিন্দু ছেলে তার ফেসবুকের আইডি হ্যাকিং করে মিথ্যাচার করা হয়েছে। যার ফেসবুক হ্যাক করেছে তাকে আবার ফোন করে বিশ হাজার টাকা চেয়েছে। বিশ হাজার টাকা না দিলে তার ফেসবুক আইডিতে এমন সমস্ত কথা লিখবে সেটা তার জন্য ক্ষতি হবে।’
‘এই কথাটা পাওয়ার পরপরই ওই হিন্দু ছেলেটা পুলিশ স্টেশনে গেছে। সে সেখানে একটা জিডিও করেছে। জিডি করা সত্ত্বেও সেখানে তাকে কিন্তু পুলিশ গ্রেপ্তার করে রেখেছে। সঙ্গে সঙ্গে যে টেলিফোনটা করেছিল তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফেসবুক আইডি হ্যাকিং হলে পরে ফেসবুক অপারেটর যারা তাদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি। তাদের কাছ থেকে আমরা সমগ্র তথ্য জোগাড় করতে পারবো।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশের ওপর চড়াও হলে, পুলিশ নিজেদেরকে বাঁচানোর জন্য একটা ঘরে আশ্রয় নেয়। আশ্রয় নেওয়ার পরও তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। সেখানে একজন এসআইয়ের গায়ে গুলি পর্যন্ত লাগে। সেই সময় সেখানে ডিসি, এসপি সকলেই পৌঁছে যায়।’
‘পুলিশকে রক্ষা করা এবং অন্যান্য সাধারণ মানুষ যারা ছিল সেখানে, যারা তাদেরকে বোঝাতে গিয়েছিল তাদেরকে রক্ষার জন্য গুলি ছোড়ে ফলে বেশ অনেক জন আহত হয়। এর মধ্যে তিনজনের মৃত্যু কনফার্ম বলা হয়েছে আরেকজনের অবস্থা মুমূর্ষ।’
সরকার প্রধান বলেন, ‘পুলিশের ওপর আক্রমণ করলো তাদের উদ্দেশ্যেটা কী ছিল সেটাই বড় কথা। এরপর থেকে দেখা যাচ্ছে ফেসবুকে নানা ধরণের অপপ্রচার সব জায়গায় ছড়ানো হচ্ছে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য। তাহলে এরা কারা? এদের উদ্দেশ্যেটা কী? ’
তিনি আরও বলেন, ‘যখনই দেখা যায় দেশটা একটু ভালোভাবে চলছে, অগ্রগতি হচ্ছে। তখনই একটা শ্রেণী আছে নানা ভাবে একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়। এইটা যেন কোনোভাবে করতে না পারে সেই জন্য আমি সাধারণ মানুষ তাদের কাছে সহযোগিতা চাই।’
মিডিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সবসময় সব জিনিস একেবারে ধারাবাহিক এমনভাবে প্রচার করবেন না যা একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে। বরং যারা সত্যিকার অপরাধী তাদেরকে দেখান। আমি এটুকুই বলবো এ ধরনের অনেক চক্রান্ত আমার বিরুদ্ধে সবসময় হয়ে থাকে।’
‘ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি, ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল যেমন মানুষ ভোগ করছে, সেরকম এর কুফলও ভোগ করছে। নানা ধরনের বিপদে ফেলে দেয়। এটা যেন বিপদে ফেলতে না পারে অর্থাৎ গুজবে কান না দিয়ে সঠিক বিষয় জেনে নেয়া দরকার।’
‘সব সংগঠনের সঙ্গে বসবো’
আওয়ামী লীগের সব সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে বসবেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের যতগুলি সহযোগি সংগঠন আছে তাদের সকলের যেন একে একে সম্মেলন হয় সেই পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছি। অনেক সময় নানা কারণে সম্মেলন দীর্ঘায়িত হয়ে যায়। আজকে যুবলীগের সঙ্গে বসেছি। পর্যায়ক্রমে সকলের সঙ্গে বসবো’
তিনি বলেন, ‘আমরা দেশকে যখন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, আমরা সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান আমরা অভ্যাহত রাখবো। এই ক্ষেত্রে যাকেই অপরাধী হবে তাদের কোনো ক্ষমা নেই।’
শীর্ষনিউজ/জে