সোমবার, ২৮-সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন
  • জাতীয়
  • »
  • পেঁয়াজের সেই সুপারিশগুলো ফাইলবন্দি

পেঁয়াজের সেই সুপারিশগুলো ফাইলবন্দি

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা: দেশের পেঁয়াজ-বাজার আবার অস্থির হয়ে পড়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভারত প্রথমে এর রপ্তানিমূল্য বৃদ্ধি করে। পরবর্তীকালে রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এতে অস্থির হয়ে পড়ে পেঁয়াজের দেশি বাজার। ৩০ টাকা কেজির এ নিত্যপণ্যটির মূল্য বাড়তেই থাকে। একপর্যায়ে ৩শ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হয়। গতবার উদ্ভূত এ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ৭ দফা সুপারিশ করা হয় পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে। কিন্তু সেসব সুপারিশের একটিও বাস্তবায়ন হয়নি গত এক বছরে; ফাইলবন্দি পড়ে আছে। এ বছর ফের পেঁয়াজের বাজার হঠাৎ করেই অস্থিতিশীল হয়ে পড়লে এ নিয়ে সারাদেশে শুরু হয় হুলুস্থূল। এর পরই নড়েচড়ে বসতে শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর কর্মকর্তারা।

দেশে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের নির্দেশে দাম বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে নামে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এর পর শতাধিক আমদানিকারক, আড়তদার ও মজুদকারীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়। দেশে পেঁয়াজের প্রকৃত মজুদ ও চাহিদা, সম্ভাব্য সরবরাহের তথ্য ব্যবস্থাপনা, বিপণন পর্যায়ে অসাধু কারবারিদের কারসাজি এবং বিশ^বাজারে পণ্যটির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিশদ পর্যালোচনার পর সাত দফা সুপারিশ যুক্ত করা হয় অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) দাখিল করা এ প্রতিবেদনে যুক্ত সুপারিশের মধ্যে ছিল- পেঁয়াজের উৎপাদন, চাহিদা, আমদানি

ইত্যাদি পর্যালোচনা করে এনবিআর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে পেঁয়াজের আমদানি ও সরবরাহ কার্যক্রম মনিটর করবে। একক উৎসের পরিবর্তে বিভিন্ন উৎস থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। দেশীয়ভাবে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের উৎসাহ প্রদান ও পেঁয়াজ উৎপাদনে নগদ ভর্তুকি দেওয়া যেতে পারে। দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ বছরব্যাপী সংরক্ষণে সংরক্ষণাগার স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। ভারতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মোট আমদানির অন্তত ৫০ শতাংশ অন্য কোনো উৎস দেশ থেকে আমদানির শর্ত আরোপ করা এবং আমদানিতে প্রণোদনা, বিশেষ করে সুদমুক্ত ও শূন্য টলারেন্সে এলসির ব্যবস্থা, সরকার থেকে থোক বরাদ্দ প্রদান করা। এ ছাড়া সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চার মাস ভারত নয়, অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির আগাম ব্যবস্থা নেওয়া, পেঁয়াজের বাজার ব্যবস্থাকে দক্ষ করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া প্রভৃতি।


এ বিষয়ে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রেসিডেন্ট গোলাম রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে নজর দেওয়া উচিত ছিল। বিশেষ করে উৎপাদন বৃদ্ধি ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনায় জোর দেওয়া দরকার। যদিও এ বছর উৎপাদন বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে আরও জোর দেওয়া উচিত ছিল।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, গত বছর পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পর নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এবার তা কাজে আসেনি। এ কারণেই দেশে ফের অস্থির হয়ে পড়েছে পেঁয়াজের বাজার।

এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ব্যবসায়ীদের একটি অংশ সুযোগ নেওয়ায় এবং সাধারণ ক্রেতারা ‘প্যানিক বায়িং’ (আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে বেশি বেশি কেনা) করায় পেঁয়াজের বাজারে ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, পেঁয়াজের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে এবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেওয়া উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে- মন্ত্রিপরিষদ সচিব, দেশের আট বিভাগীয় কমিশনার, দেশের ৬৪ জেলা প্রশাসকের কাছে বাজার মনিটরিং জোরদার করতে চিঠি পাঠানো। ফরিদপুর, পাবনা, রাজবাড়ী ও নাটোর- এ চার জেলার জেলা প্রশাসকদের পেঁয়াজের উৎপাদন, মজুদ, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সক্রিয় ভূমিকা পালনে বাণিজ্য সচিবের ডিও লেটার প্রদান। পেঁয়াজের বিষয়ে দ্রুত সঙ্গনিরোধ সনদ ইস্যু করতে কৃষি মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রদান। পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানিকারকদের এলসি খোলাসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর চিঠি পাঠানো। পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানি করা পেঁয়াজ স্থলবন্দর থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ছাড় করতে এবং আমদানিকারকদের সহযোগিতা করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি প্রেরণ।

পেঁয়াজের ওপর ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আপাতত প্রত্যাহারের জন্য এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠানো। বাজারে পেঁয়াজের স্বাভাবিক সরবরাহ অব্যাহত রাখতে এবং পণ্যটির মূল্যে স্থিতিশীলতায় আমদানি করা পেঁয়াজ বেনাপোল, ভোমরা, সোনা মসজিদ ও হিলি বন্দর থেকে দ্রুততম সময়ে ছাড়করণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থলবন্দর চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি প্রেরণ। পেঁয়াজের উৎপাদন, মজুদ ও মূল্য পরিস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য জোগাড় করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবদের পাবনা, নাটোর, রাজবাড়ী ও ফরিদপুরে পাঠানো হয়েছে। স্থল ও নদীবন্দরে পেঁয়াজের আমদানি পরিস্থিতি, কনটেইনার জট ও কৃত্রিম সংকট আছে কিনা তা দেখে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য স্ব-স্ব কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

শীর্ষনিউজ/এম