শুক্রবার, ০৭-আগস্ট ২০২০, ০৬:২২ পূর্বাহ্ন
  • প্রবাস
  • »
  • আমেরিকান স্বামী নিয়ে গ্রামের বাড়িতে নাসার বিজ্ঞানী মাহমুদা

আমেরিকান স্বামী নিয়ে গ্রামের বাড়িতে নাসার বিজ্ঞানী মাহমুদা

shershanews24.com

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারী, ২০২০ ০৯:৫৩ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, পাবনা: শুধু বাংলাদেশ নয়, সারাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাঙালির কাছে পাবনার ঈশ্বরদীর জয়নগর গ্রামের মাহমুদা সুলতানা মুনমুন (৩৭) পরিচিত একটি নাম হয়ে উঠেছে। এটা হয়েছে তার নিজ কর্মগুণে। মুনমুন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (নাসা) একজন সফল বিজ্ঞানী। মাত্র কয়েকদিনের জন্য তিনি এসেছিলেন ঈশ্বরদীর সলিমপুর ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে নিজ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে। তিনি আবার কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে চলে গেছেন ঢাকায়।

আমেরিকান স্বামী ইয়াকুবকে নিয়ে গ্রামে আসায় পরিবারের সদস্য ছাড়াও গ্রামের মানুষ আগ্রহভরে দেখতে আসেন দম্পতিকে। বাংলাদেশে এসে নাসার বিজ্ঞানী ইয়াকুবও অভিভূত হন গ্রাম-বাংলার মনোরম পরিবেশ দেখে। শ্বশুরবাড়িতে এসে মনভরে খেয়েছেন মাছ, ডাল, ভাত আর শীতের ঐতিহ্যবাহী হরেক রকমের পিঠাপুলি।

২০১৭ সালে নাসার বর্ষসেরা আবিষ্কারক মনোনীত হয়ে সারা পৃথিবীতে সাড়া ফেলে দেয়া মাহমুদা কয়েকদিন আগে তার স্বামীকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি ঈশ্বরদীতে বেড়াতে আসেন।

আলাপচারিতায় ৩৭ বছর বয়সী মাহমুদা বলেন, আমি সবসময় জটিল সমস্যা সমাধান করতে ভালোবাসি। সবসময় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সফলতা অর্জন করার চিন্তা করি। নাসার বিশাল কর্মযজ্ঞের মধ্যে প্রতিনিয়ত জটিল জটিল সমস্যা সমাধানের জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে সফল হয়েছি। আমি বাংলাদেশি হিসেবে গর্বিত যে পৃথিবীর বড় বড় বিশেষজ্ঞকে পেছনে ফেলে আমি জয়ী হয়েছি। এই অর্জন বাংলাদেশের।

মাহমুদা ছোটবেলায় বাবার চাকরির সুবাদে রংপুর ও রাজশাহীতে পড়ালেখা করেছেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন অসাধারণ মেধাবী।

মাহমুদা বলেন, জয়নগরের মানুষের ভালোবাসা সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশ থেকে নাসায় ফিরে গিয়ে আরও ভালো কিছু করতে পারব। তাদের ভালোবাসা আমাকে আরও প্রেরণা জুগিয়েছে।

মাহমুদা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর শেষ করে বিশ্বখ্যাত ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি পারমাণবিক স্কেল নিয়ে কাজ করার সুযোগ পান। এ সময় মাহমুদার সৃজনশীলতায় মুগ্ধ হয় নাসা।

বর্ষসেরা আবিষ্কারক নির্বাচিত করার পাশাপাশি নাসার সাময়িকী ‘কাটিং এজ’র প্রচ্ছদ প্রতিবেদনও করা হয় তাকে নিয়ে। এছাড়া নাসার গ্রুপ অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড, জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ অ্যাওয়ার্ড, ইয়ারলি ক্যারিয়ার অ্যাচিভমেন্ট মেডেল, অভ্যন্তরীণ রিচার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, বেল ল্যাবরেটরি গ্র্যাজুয়েশন ফেলোশিপ, এনএসএফ গ্র্যাজুয়েটস ফেলোশিপ, মার্গারেট এইচ রোসেভ ফেলোশিপসহ বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করেছেন মাহমুদা।

মাহমুদা বলেন, নাসায় কাজ করতে গিয়ে আমেরিকান বিজ্ঞানী জ্যাকবের সঙ্গে পরিচয় হয়। তারপর দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হয়। জ্যাকব খ্রিষ্টধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হন। ৮-৯ মাস আগে আমেরিকায় পারিবারিকভাবেই তাদের বিয়ে হয়। জ্যাকবের নতুন নাম হয় ইয়াকুব।

ইয়াকুব বলেন, প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এসে আমি মুগ্ধ। এখানকার মানুষের ভালোবাসা আমাকে ঋণে আবদ্ধ করেছে। বাংলাদেশ খুব ভালো দেশ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী প্রয়াত গোলাম জাকারিয়ার একমাত্র মেয়ে মাহমুদা। তার চাচা সেতু মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আলাউদ্দিন আহমেদ। গত বছর মাহমুদার বাবা আমেরিকায় মারা যান। মাহমুদার তিন ভাই আর মা এখন আমেরিকা প্রবাসী।

সলিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বাবলু মালিথা বলেন, মাহমুদার এই অর্জনে আমি খুবই আনন্দিত। ইউনিয়নবাসী শুধু নয়, সারা বাংলাদেশের মানুষ আজ তাকে নিয়ে গর্ব করে।

মাহমুদার চাচা ঈশ্বরদী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান মিন্টু বলেন, মাহমুদার কারণে এলাকার মানুষের কাছে বিশেষ সম্মান পাই। আমাদের পরিবারকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন মাহমুদা।
শীর্ষনিউজ/এসএসআই
 



..........