শুক্রবার, ০৫-জুন ২০২০, ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন
  • অপরাধ
  • »
  • রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড

রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৯ মার্চ, ২০২০ ০৮:৫৬ অপরাহ্ন

শীর্ষ নিউজ, ঢাকা: রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুনর্বাসন কেন্দ্র (পঙ্গু) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। রোববার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের দায়িত্বরত নার্স মোমেনা খাতুন নামাজে থাকা অবস্থায় ধোঁয়ার গন্ধ পান। নামাজ থেকে দৌড়ে এসে খবর দেন তিনি। পরে ফায়ার সার্ভিসকে জানান রিসিপশনের হারুন-অর-রশিদ। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

হারুন-অর-রশিদ জানান, আগুনের খবর জানার সঙ্গে সঙ্গে ফোন দিয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিই। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নেভাতে আসে।

নার্স মোমেনা খাতুন বলেন, আমিসহ নন্দিতা বিশ্বাস, জান্নাতুল, ফেরদৌস ও কামিনী নাহার ডিউটিতে ছিলাম। আমি মাগরিবের নামাজ পড়ছিলাম। এ সময় হঠাৎ একটা বিকট শব্দ শুনতে পাই। পরে পোড়া গন্ধও পাই। এখানে তিনজন রোগী ছিল। তাড়াতাড়ি করে তাদের বের করে নেই এবং অনুসন্ধানে খবর দেই। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিভিয়ে ফেলে।

পঙ্গু হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মাহফুজুল হক তালুকদার জানান, প্রথমে বলবো আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আমাদের বড় বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন। হাসপাতালে অনেক রোগী ছিল। আগুনের ভয়াবহতা বাড়লে কত মানুষের প্রাণহানি ঘটতো তা বলে বোঝাতে পারবো না।

পঙ্গু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো আব্দুল গণি মোল্লাহ জানান, আমি খবর পেয়ে চলে আসি। এসে ভেতরে প্রবেশ করতে পারছিলাম না। প্রচণ্ড ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়েছিল। পরে ভেতরে ঢুকে দেখলাম ওটির (অপারেশন থিয়েটার) প্রায় সব যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে। আগুনের ভয়াবহতায় টাইলস খুলে পড়ে গেছে। আমাদের এই ওটিতে ব্যয়বহুল অপারেশন হয়। স্টিম সেল ওটির ফ্রিজে কিট ছিল। এটা একটি জার্মানির ব্যয়বহুল প্রোজেক্ট। আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমত যে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। সবচেয়ে বড় কথা হলো জীবনের কোনো ক্ষতি হয়নি।


সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. রায়হানুল আশরাফ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত মোহাম্মদপুর থেকে দুটি ইউনিট চলে আসি। এসে হাসপাতালের ২য় তলার ওটির সামনে আসলে প্রচণ্ড ধোঁয়ার কারণে ভেতরে ঢুকতে পারছিলাম না। পরে সেফটি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করি। তখনও ওটির ভেতরে আগুন কোথায় লেগেছে সেটা বুঝতে পারছিলাম না।

তিনি জানান, ড. আয়জাজ আহমেদ খান স্পেশালাইজড ওটি কমপ্লেক্সের ভেতরে আটটি ওটি রয়েছে। একটি একটি করে খুঁজতে খুঁজতে ৮নং ওটিতে আমরা আগুনসহ প্রচণ্ড ধোঁয়া পাই। পরে সেটা নিভিয়ে ফেলি। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ হিসেবে ফ্রিজের কম্প্রেসার থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদি বাতাস ঢোকার কোনো ব্যবস্থা থাকত তাহলে বড় ধরনের ক্ষতি হতো। আগুনের তীব্রতায় টাইলস খসে পড়েছে। ওটির ভেতরের প্রায় ৭০-৮০ ভাগ জিনিস পুড়ে গেছে। তবে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না।
শীর্ষ নিউজ/এন