shershanews24.com
করোনা: এশিয়ার পরবর্তী ‘হটস্পট’ হয়ে উঠছে বাংলাদেশ 
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২০ ০৬:২৫ অপরাহ্ন
shershanews24.com

shershanews24.com

শীর্ষ নিউজ, ঢাকা: মাত্র দুই মাসেই করোনা ভাইরাস সংক্রমণে এশিয়ার পরবর্তী ‘হটস্পট’ হয়ে উঠছে বাংলাদেশ। এমনকি সংক্রমণের হারে ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়াকেও ছাড়িয়ে গেছে এই সময়ের মধ্যে।  প্রথম ৬০ দিনের হিসাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সংক্রমণের হার বেশি। আবার, বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি দেশের সুস্থতার হারের ধারে কাছেও নেই বাংলাদেশ। প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় বাংলাদেশ  ‘এশিয়ার হটস্পটে’ পৌঁছে গেছে বিশ্ব করোনা র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ উঠে এসেছে ৩০ নম্বরে। সোমবারও (১১ মে) বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৩৪। আর আগে, ৫ মে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৩৭ এ। বাংলাদেশ ছাড়িয়ে গেছে পোল্যান্ড ইসরায়েল, ইন্দোনেশিয়াকে। এমনকি দক্ষিণ কোরিয়াও এখন বাংলাদেশের চেয়ে অনেক পেছনে।

জনতত্ত্ব-ঘনবসতি ও আক্রান্তের হার হিসাবে সংক্রমণের এ সূচক ভয়ঙ্করভাবেই স্পষ্ট। যদিও করোনাভাইরাস সংক্রমণের গতিতে সপ্তাহখানেক আগেও এশিয়ার হটস্পট ছিল পাকিস্তান। কিন্তু গত কয়েকদিনে পাকিস্তাকে টপকে এক লাফে শীর্ষে উঠে যায় ভারত। আর এখন প্রতিবেশী সবাইকে পেছনে ফেলে সামনে বাংলাদেশ। হয়ে উঠেছে দক্ষিণ এশিয়ার আতঙ্ক। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পিক টাইমে ফ্রান্স-স্পেন-ইতালিসহ এমনই ছিল- ইউরোপের আতঙ্ক । একই হাল ছিল যুক্তরাষ্ট্রেরও।

দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৮ মার্চে। তারপর থেকে প্রতিদিনই আক্রান্তের নতুন রেকর্ড গড়ছে বাংলাদেশ। ধীরে ধীরে এশিয়ার পরবর্তী হটস্পটে পরিণত হচ্ছে। করোনা শনাক্তের দুই মাস পর সেই চিত্র আরও পরিষ্কার হচ্ছে।

সোমবার দেশে প্রথমবারের মতো করোনা সংক্রমণের সংখ্যা হাজার (১,০৩৪ জন) ছাড়িয়েছে। এই হিসাবেও এশিয়ার অন্যান্য দেশ ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও সিঙ্গাপুরের চেয়ে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের হার অনেক বেশি। করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যার দিক দিয়ে ১১ মে পর্যন্ত  বাংলাদেশের অবস্থান ৩৪তম।  ইউক্রেন ও রোমানিয়াকে পেছনে ফেলে সংক্রমণে এখন এশিয়ায় দশম অবস্থানে বাংলাদেশ।

আক্রান্তের হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত-পাকিস্তানের পেছনে থাকলেও সংক্রমণ হারে এশিয়ার অর্ধশতাধিক দেশের শীর্ষে এখন বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার ( ১২ মে) সকাল পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ১৬ হাজার ছাড়িয়ে ১৭ হাজার ছুঁই ছুঁই অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। এরপর বিপরীতে ৩ হাজার ১৪৭ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন বলে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদফতর দাবি করেছে। তবে সুস্থতার হারে বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে বলে পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।    গত ৫ মে পর্যন্ত দেশে সুস্থতার হার ছিল ২৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ। যা কিনা করোনায় বহির্বিশ্বে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ইতালির অর্ধেকেরও কম! ইতালিতে করোনাআক্রান্ত প্রথম ৬০ দিনে সুস্থতার হার ছিল ৫৫ দশমিক ৭৫। অন্যদেশগুলোতে একই সময়ে সুস্থতার হার ইতালির চেয়েও বেশি। 

ভারতে সোমবার পর্যন্ত করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৬ লাখ ৭৩ হাজার ৬৮৮ জনের। তাদের মধ্যে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ৬৭ হাজার ২৫৯ জন। সংক্রমণের (করোনা পজিটিভ) হার ৪ দশমিক শূন্য এক শতাংশ।

পাকিস্তানে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৮৯৪ জনের মধ্যে করোনা পজিটিভ ৩০ হাজার ৯৪১ জনের।

সংক্রমণের হার ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। বাংলাদেশে সোমবার পর্যন্ত এক লাখ ২৯ হাজার ৮৬৫ জনের পরীক্ষা করা হয়েছে। আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৬৯১ জন। সংক্রমণের হার ১২ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।

সিঙ্গাপুরে এক লাখ ৭৫ হাজার ৬০৪ জনের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজার ৮২২ জনের। সংক্রমণের হার ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। ইন্দোনেশিয়ায় এক লাখ ৬১ হাজার ৩৫১ জনের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ২৬৫ জনের। সংক্রমণের হার ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

ফিলিপাইনে এক লাখ ৭৩ হাজার ১৪৪ জনের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৮৬ জনের। সংক্রমণের হার ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ। এশিয়ায় করোনা সংক্রমণের শীর্ষে ছিল চীন। দেশটিতে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

এছাড়া, সৌদি আরবে ৩৯ হাজার ৪৮, কাতারে ২২ হাজার ৫২০, আরব আমিরাতে ১৮ হাজার ১৯৮, ইসরাইলে ১৬ হাজার ৪৯২ ও জাপানে ১৫ হাজার ৭৭৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

সবগুলো দেশেই বাংলাদেশের তুলনায় করোনা পরীক্ষার হার তিনগুণের বেশি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা ও মিয়ানমারে গত কয়েক সপ্তাহে কোনো মৃত্যু নেই। এসব দেশে আক্রান্তের সংখ্যাও হাতে গোনা, এক হাজারের কম।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আগের তুলনায় সংক্রমণ বাড়লেও করোনা পরীক্ষার হার এখনও অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। ‘পিক আওয়ারেই’ লকডাউন শিথিলে ভয় আরও বাড়ছে।

দেশে লকডাউন পরিস্থিতি বদলে যেতে শুরু করেছে। গণপরিবহন ছাড়া সব ধরনের যানবাহনের দেখা মিলছে সড়কগুলোতে। সচল হয়েছে আরিচা ফেরিঘাট।

কাঁচাবাজার তো আগেই খোলা ছিল, এর সঙ্গে চালু হয়েছে অন্যান্য দোকানপাটও। মার্কেটগুলোর সামনে বাড়ছে ভিড়। রাজধানীর সড়কে শুরু হয়েছে যানজট। ফলে ক্রমশই কঠিন হয়ে যাচ্ছে দেশের পরিস্থিতি। প্রথম মাসে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ এর উপরে ওঠেনি।

প্রথম চার সপ্তাহে আক্রান্ত সংখ্যা ছিল ২১৮ জন। মৃত্যু ২০ জন। দ্বিতীয় মাসের শুরু থেকেই আক্রান্ত বাড়তে শুরু করে একশ, দুইশ, তিনশ-এই হারে। সংক্রমণের দ্বিতীয় মাসের তৃতীয় সপ্তাহের প্রথম দিনই আক্রান্ত পাঁচশ ছাড়িয়ে যায়।

এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই সংক্রমণ সংখ্যা পাঁচশ ছাড়িয়েছে। গত শনিবার দ্বিতীয় মাস শেষে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ১৩৪ জন। মারা গেছেন ২০৬ জন। তৃতীয় মাসের শুরুতেই সোমবার ১,০৩৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
শীর্ষ নিউজ/এন