সোমবার, ৩০-মার্চ ২০২০, ০৩:১৯ অপরাহ্ন
  • অন্যান্য
  • »
  • প্রেমিকের চুরি করা কার্ডে টাকা তুলে ধরা প্রেমিকা

প্রেমিকের চুরি করা কার্ডে টাকা তুলে ধরা প্রেমিকা

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০২:৪৩ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ ডেস্ক: দুবাইয়ে বসবাসরত আবাসন ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামের সাউথইস্ট ব্যাংকের ডেবিট কার্ড চুরি করেন তার গাড়িচালক ও বিশ্বস্ত সহযোগী মো. মামুন। কার্ডটি মামুন দুবাইয়ে থাকা আরেক বাংলাদেশি (তার বন্ধু) জসিমউদ্দিন রাজুকে দেন। রাজু কার্ডটি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বাংলাদেশে তার প্রেমিকা তানিয়া আক্তারের কাছে পাঠান। আর হোয়াটসঅ্যাপে দেন কার্ডের গোপন পিন নম্বর। তানিয়া ওই কার্ড দিয়ে ঢাকার বিভিন্ন এটিএম বুথ থেকে ১৩ লাখ টাকা তুলে নেন। ওই টাকা দুটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তিনি দুবাইয়ে রাজু ও মামুনের কাছে পাঠান। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তানিয়ার।

সাউথইস্ট ব্যাংকের এটিএম বুথের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। গত শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার একটি বাসা থেকে তানিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত বছরের ৭ জুলাই ওই টাকা তুলে নেন তানিয়া। রাজধানীর মালিবাগ, মৌচাক এলাকার বিভিন্ন বুথ থেকে টাকা তুলে নেন তিনি। পরে সাইফুল দুবাই থেকে এসে অ্যাকাউন্টে টাকা না পেয়ে গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর রমনা থানায় মামলা করেন। টাকা তুলে নেওয়া ব্যক্তিকে শনাক্তে সহায়তাকারীকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ডিবি পুলিশ।

তানিয়াকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজুর সঙ্গে তানিয়ার সম্পর্ক বেশ কয়েক বছরের। আর মামুন রাজুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মামুন ছিলেন সাইফুল ইসলামের অন্যতম বিশ্বস্ত কর্মী। সেই সূত্রে রাজু সাইফুলের দুবাইয়ের বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতেন। বিশ্বস্ততার সুবাদে সাইফুল ইসলামের কার্ডের গোপন নম্বর পর্যন্ত জানতেন মামুন। এ সুযোগটিই কাজে লাগান তিনি।

তানিয়া ১৩ লাখ টাকা তুললেও বিনিময়ে পান মাত্র ৪০ হাজার টাকা। বাকি টাকা তিনি ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এবং ওয়ান ব্যাংকের কয়েকটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দুবাই পাঠান। এর মধ্যে ওয়ান ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্ট রাজুর বলে জানিয়েছেন তানিয়া। অন্য অ্যাকাউন্টগুলো কার নামে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত পুলিশকে জানাতে পারেননি তিনি।

এ বিষয়ে ডিবির সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের শুটিং ইনসিডেন্ট টিমের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. আশরাফউল্লাহ আমাদের সময়কে বলেন, টাকাগুলো রাজু না মামুনের কাছে গেছে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি তানিয়া। তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য জানা যেতে পারে। রাজু বা মামুন দুজনের একজনকেও ধরতে না পারলে ঘটনার আদ্যোপান্ত পরিষ্কার হওয়া কঠিন।

গতকাল শনিবার দুপুরে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে তানিয়াকে ঢাকার আদালতে তোলেন ডিবির সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান। আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত বছরের ১৭ ও ১৮ নভেম্বর কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে পূবালী ব্যাংকের তিনটি এটিএম বুথে ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা তুলে নেয় অপরাধী চক্র। এ ঘটনায় কুমিল্লার কোতোয়ালি ও চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানায় মামলা করে পূবালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

এর আগে গত বছরের ৩১ মে রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে ১৪ লাখ টাকা তুলে নেওয়ার ঘটনায় ৬ বিদেশিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাদের সহায়তাকারী বাংলাদেশি একটি চক্রেরও সন্ধান পায় ডিবি।
শীর্ষনিউজ/এ