শনিবার, ৩১-অক্টোবর ২০২০, ০৯:৩২ অপরাহ্ন
  • আন্তর্জাতিক
  • »
  • আর্মেনীয়দের বিপক্ষে আজারবাইজানের হয়ে লড়ছে পাকিস্তানি সেনারা !

আর্মেনীয়দের বিপক্ষে আজারবাইজানের হয়ে লড়ছে পাকিস্তানি সেনারা !

shershanews24.com

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর, ২০২০ ১২:১৫ পূর্বাহ্ন

শীর্ষনিউজ ডেস্ক : তুর্কি সেনাদের পর এবার পাকিস্তানের সৈন্যরাও আজারবাইজানের হয়ে লড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, সম্প্রতি শুরু হওয়া প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্রের সংঘাতে আর্মেনীয়ার বিরুদ্ধে আজারবাইজানের হয়ে লড়াই করছে পাকিস্তানি সেনারা।

ফ্রিনিউজ.এম প্রচারিত এ টেলিফোন আলাপের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জিনিউজের এক প্রতিবেদনে মাধ্যমে তুলে এনছে  চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্থানীয় দুই আজারবাইজান নাগরিকের এক টেলি- আলাপের ভিত্তিতে ওই অঞ্চলে পাকিস্তানি সেনাদের উপস্থিতি রয়েছে বলে  প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জিনিউজ জানিয়েছে, স্থানীয় দুই আজারবাইজানিকে টেলিফোনে একে-অপরের সঙ্গে কথা বলতে শোনা গেছে। তারা একে অপরকে বলছেন, ‘আমরা কীভাবে লিখতে পারি? আমাদের টাকা-পয়সা নেই। আমরা ভালো আছি, চিন্তার কিছু নেই। ৭ থেকে ৮টি গ্রাম মুক্ত করা হয়েছে। ভয় পেও না। হ্যাঁ, আমি জানি। মার্ভ পর্বতও আমরা দখলে নিয়েছি। আগদাম থেকে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাদের একত্রিত করে আগদামের দিকে নেওয়া হয়েছে।’

গত রোববার থেকে নতুন করে বিতর্কিত অঞ্চলটি নিয়ে প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্র আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্য্যে সংঘাত শুরু হয়। ২০১৬ সালের পর বিতর্কিত ওই অঞ্চলে এবারই দেশ দুটির মধ্যকার ক্রমবর্ধমান লড়াই ও সংঘর্ষে বেসামরিক নাগরিকসহ প্রায় ১০০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই তাদের সেনা ও বেসামারিক নাগরিক বলে দাবি করেছে আর্মিনিয়া। অন্যদিকে আজারবাইজান তাদের নিহত সেনার সংখ্যা না বললেও ৭ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিতর্কিত নাগোরনো-কারাবাখ পার্বত্য অঞ্চলটি আজারবাইজানের অংশ হিসেবে স্বীকৃত। তবে এটি আর্মেনিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ১৯৯৪ সাল থেকে। এর আগে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর  জাতিগত আর্মেনীয় অঞ্চল নাগোরনো-কারাবাখ স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়। এরপর থেকেই অঞ্চলটি কেন্দ্র করে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে এই দুই দেশ।

আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজান দুই দেশই যুদ্ধ শুরুর দায় একে ওপরের বিরুদ্ধে চাপাচ্ছে।  আজারবাইজান বিমান ও গোলন্দাজ হামলা শুরু করেছে বলে অভিযোগ আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের। অন্যদিকে সীমান্তজুড়ে শুরু হওয়া গোলাবর্ষণের জবাব দেয়া হচ্ছে দাবি আজারবাইজানের। তবে পাকিস্তান সেনা সম্পর্কে এখনো মুখ না খুললেও আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তুর্কি সৈন্যরা অংশ নেয়নি বলে দাবি আজারবাইজানের।

এদিকে যুদ্ধ শুরুর জন্য আর্মেনিয়াকে দায়ী করেছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, সংঘাত তীব্র হওয়ার আগেই আর্মেনিয়াকে তার সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানই প্রথম দেশ এই সংঘাত নিয়ে মন্তব্য করেছে। তুরস্কের সঙ্গে সুর মিলিয়ে আজারবাইজানকে সমর্থন করছে ইসলামাবাদ।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তান গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তেরতার, আগদাম, ফিজুলি এবং জাবরাইলে আর্মেনিয় বাহিনীর হামলা দু:খজনক বলেও উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তান অবশ্যই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ আজারবাইজানের পাশে দাঁড়াচ্ছে এবং তার আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করছে বলে জানানো হয়।

তুরস্কের মতো পাকিস্তানও প্রথম বিশ্বযুদ্ধে আর্মেনীয় গণহত্যার স্বীকৃতি দেয়নি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় অটোম্যান বা বর্তমান তুরস্কে ১৫ লাখ জাতিগত আর্মেনিয়ান নিহত হয়েছিল। তুরস্ক এখনো সেই গণহত্যা অস্বীকার করে আসছে।
শীর্ষনিউজ/এসএসআই