বুধবার, ০১-এপ্রিল ২০২০, ০৪:৪৬ অপরাহ্ন

বয়স বাড়লেও বুড়ো হননি যারা

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: যৌবন চিরকাল থাকে না। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বার্ধক্য অবশ্যম্ভাবী। এক সময়ের তরতাজা শরীর ধীরে ধীরে জরাগ্রস্ত, চলৎশক্তিহীন হবে এটাই চিরন্তন। কিন্তু যে বয়সে মানুষ এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় সেই বয়সে এমন অনেকেই আছেন যারা দিব্যি দৌড়াচ্ছেন, সার্ফিং করে বেড়াচ্ছেন।  আজ এমন ৫ জন মানুষের কথা জানাব, যাদের বয়স ৭০-১০০ পেরিয়েও চলছে তরুণদের মতো!
এডুইনা ব্রোকেলসবি, বয়স ৭৭, সারে
বলা যায়, বয়স ৫০ হওয়ার আগপর্যন্ত কোনো শরীরচর্চাই করেননি এডুইনা ব্রোকেলসবি। তরুণ বয়সের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘একবার বিশ্ববিদ্যালয়ের লংজাম্প টিমের সঙ্গে আমি একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলাম। পরের দুই সপ্তাহ আমি কোনো নড়াচড়াই করতে পারিনি। এর মধ্য দিয়ে আমার অ্যাথলেটিক ক্যারিয়ারেরও ইতি ঘটে।’ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পর তিন সন্তানের জননী হন এডুইনা। ব্যস্ত হয়ে যান চাকরিতে। তিনি একজন সমাজকর্মীও। পরিচালনা করেন দুটি দত্তক প্রতিষ্ঠান। এক দিন হঠাৎ খেয়াল করলেন তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এক পুরনো বন্ধু একটি ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় দৌড়াচ্ছে। এই দৃশ্য দেখার পর তিনি ভাবলেন, নিছক মজা করার ছলেই বন্ধুটি ম্যারাথনের মতো একটি দীর্ঘ দৌড়ে অংশ নিয়েছে। বাসায় এসে স্বামীকেও বললেন এ ঘটনাটির কথা। শুনে এডুইনার স্বামীও হাসলেন কিছুক্ষণ। কিন্তু তারপরই তিনি এডুইনাকে একটি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বসলেন। চ্যালেঞ্জটি হলো এডুইনা কিছুতেই বাসা থেকে দৌড়ে নর্দাম্পটন পর্যন্ত যেতে পারবেন না। এডুইনার বাসা থেকে নর্দাম্পটনের দূরত্ব অন্তত তিন মাইল। স্বামীর চ্যালেঞ্জটিকে তিনি আমলে নিলেন এবং দৌড়ানোর জন্য মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করলেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তার স্বামী মারা গেলেন। এডুইনার বয়স তখন ৫২। স্বামীর চ্যালেঞ্জের সূত্র ধরেই একটি দৌড়বিদ দলের সঙ্গে পরিচয় ঘটে এডুইনার। তারা তার প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। শুরু হয় এডুইনার দৌড় অনুশীলন এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কিছু শরীরচর্চা। কয়েক দিনের মধ্যেই বার্ধক্যের ভার তার শরীর থেকে উধাও হয়ে যেতে শুরু করে। প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে তার জীবন। দৌড়বিদ দলটির সঙ্গও তিনি উপভোগ করতেন। কারণ তারা তাকে সমর্থন এবং মূল্যায়ন করত।
দৌড়বিদ দলটি ছোট হলেও তারা লন্ডন ম্যারাথনে বেশ ভালো করত। ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার তাড়না শুরু হয় এডুইনার মধ্যেও। অবশেষে ১৯৯৬ সালে ৫৩ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো লন্ডন ম্যারাথনে অংশ নেন তিনি। তারপর থেকেই একের পর এক ম্যারাথনে অংশ নিতে শুরু করেন। শুধু তাই নয়, ৫৬ বছর বয়স থেকে তিনি নিয়মিত সাঁতার অনুশীলনও শুরু করেন। বয়স ৬০ পেরিয়ে যাওয়ার পর ‘রেইস অ্যাক্রস আমেরিকা’ নামে একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এ প্রতিযোগিতায় চারজনের একটি দলের সঙ্গে আমেরিকায় সাইকেলে চড়ে প্রায় তিন হাজার মাইল দূরত্ব পাড়ি দেন। বর্তমানে তার বয়স ৭৭ হলেও এখনো দুর্দান্ত দৌড়ান।
এডুইনা মনে করেন, শারীরিকভাবে সচল থাকলে বার্ধক্যের অনেক জটিলতাকে পাশ কাটিয়ে চলা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার গতিও কমে আসছে। তবে প্রতিদিন অন্তত ৫ কিলোমিটার দৌড়াই আমি। আর হাঁটি তার চেয়েও বেশি। সাধারণ অ্যাথলেটদের সঙ্গে এখনো দৌড়াতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি।’
অ্যাডি ডিগেট, বয়স ৭৪, বাকিংহ্যামশায়ার
৭৪ বছর বয়সেও তরুণদের মতোই দৌড়াচ্ছেন ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য অ্যাডি ডিগেট। শুধু তাই নয়, আইস স্কেটিং, রোলার স্কেটিং, তলোয়ার চালনা, সাইকেল চালানোয় এখনো তিনি দুর্দান্ত। তরুণ বয়সে ১৯৬২ সালে অস্ট্রেলিয়ার পার্থে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসের সাঁতার প্রতিযোগিতায় তিনি ইংল্যান্ডের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিগত ৪৫ বছর ধরে তিনি নিয়মিত ভারোত্তোলন চর্চা করছেন। এরমধ্যে দুবার তিনি ব্রিটিশ বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন। তার এ দুটি জয়ের একটি এসেছিল ৫৮ বছর বয়সে, অন্যটি ৬৮ বছর বয়সে। এখনো প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দুঃসাহসিক স্ট্যান্টে অংশ নেন তিনি। চীনা মার্শাল আর্টে তার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। তাকে একজন শাওলিন মাস্টার হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। কঠোর শারীরিক অনুশীলনের মাধ্যমে শরীরের সহনশীলতা বাড়াতে সক্ষম হয় চীনের শাওলিনরা।
যে বয়সে অনেকে চলাফেরার শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলে সেই বয়সে শরীরে এখনো তরুণদের মতোই শক্তি ধরে রেখেছেন ডিগেট। তবে এর জন্য তিনি তার বাবাকে বিশেষ কৃতিত্ব দেন। তার বাবা ছিলেন বদমেজাজি এবং বিরাট শরীরের একজন মানুষ। ডিগেট এবং তার মায়ের ওপর প্রায় সময়ই চড়াও হতেন ওই ভদ্রলোক। বাবার এ কঠোরতাই বদলে দিয়েছে ডিগেটকে। দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডিগেট জানান, ১৬ বছর বয়সে একদিন তিনি স্থানীয় একটি লেকে মাছ ধরছিলেন। ঠিক এমন সময়ই তার মা সেখানে এসে হাজির হন এবং জানান, তার বাবা তাকে মারতে আসছে। বলতে না বলতেই এক মূর্তিমান আতঙ্কের মতো পাহাড়ি ঢালের সেই লেকের পাড়ে এসে হাজির হন ডিগেটের বাবা। এসেই ডিগেটকে বেদম কিল-ঘুষি শুরু করেন। সেই দিনগুলোতে স্থানীয় একটি ক্লাবে কুংফু প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন ডিগেটও। কয়েক দিনের মধ্যেই একটি ব্রাউন বেল্ট পাওয়ার কথা ছিল তার। অগত্যা আর কী করা? বাবার সঙ্গেই লড়াই শুরু করে দেন এবং তাকে পরাস্ত করেন তিনি। কিন্তু সেই লড়াইয়ে ডিগেটের বাবার একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়। এর জন্য আজও অনুশোচনা হয় ডিগেটের। তবে ওই ঘটনার পর একদম বদলে গিয়েছিলেন তার বাবা। এরপর ডিগেটের মাকেও আর কোনোদিন মারধর করেননি তিনি।
ডিগেট জানান, ৭৪ বছরের মধ্যে তিনি কখনই গুরুতর কোনো অসুখে পড়েননি। যদিও ২০১৮ সালে তার অন্ত্রে ক্যানসার শনাক্ত করা হয়। সেই বছরের ১৯ নভেম্বর সকাল ১১টায় হাসপাতালে গিয়ে ক্যানসার অপসারণ করে প্রায় সুস্থ-সবল শরীরে রাত সাড়ে ৮টায় বেরিয়ে আসেন। অপারেশন করতে গেলে হাসপাতালেও চিকিৎসকরাও তার শরীরের শক্তি এবং সৌন্দর্য দেখে অভিভূত হয়ে যান।
গাইন হ্যাসলক, বয়স ৭৩, কর্নওয়াল
গাইন হ্যাসলক একজন সার্ফার। সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সার্ফিং করাই নেশা এ নারীর। এমনকি তার বয়স ৭৩ বছর হয়ে গেলেও এখনো সাবলীলভাবেই সার্ফিং করে যাচ্ছেন তিনি।
হ্যাসলকের বেড়ে ওঠার দিনগুলোতে তার পরিবার প্রায়ই সমুদ্রে ঘুরতে যেত। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে শিশু থাকা অবস্থায়ই সার্ফিংয়ে হাতেখড়ি হয় হ্যাসলকের। যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালের উত্তর উপকূলে তার বাবাই তাকে সার্ফিং করা শিখিয়েছিলেন। 
সেই সময়টিতে মূলত একটি কাঠের তক্তা ব্যবহার করে সার্ফিং করতেন তিনি। পরে ১৯৬৫ সালে প্রথমবারের মতো সত্যিকারের একটি সার্ফিং বোর্ড পান। সার্ফিংয়ে দুর্দান্ত নেশা থাকলেও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো পেশাকে বেছে নেননি হ্যাসলক। তিনি বরং একটি প্রতিষ্ঠানে টাইপিংয়ের পেশা বেছে নিয়েছিলেন। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ছিল তার অফিস। তাই প্রতিদিন সার্ফিং করা সম্ভব না হলেও সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে সার্ফিং বোর্ড নিয়ে ছুটে যেতেন সমুদ্রে।
ছোটবেলা থেকেই সমুদ্র ভালোবাসতেন হ্যাসলক। আর সমুদ্রের বুকে কিছু মানুষের সার্ফিং করে বেড়ানোর দৃশ্য তিনি খুব উপভোগ করতেন। তাই নিজেও সার্ফিং শেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠেছিলেন। বাবার কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে এক মাসের মধ্যেই তিনি ভাসমান কাঠের তক্তার ওপর দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছিলেন। আর এক বছরের মধ্যেই সার্ফিংয়ে তিনি তার নিজস্ব স্টাইল খুঁজে পান। ১৯৬৫ সালে প্রথমবারের মতো একটি সার্ফিং চ্যাম্পিয়নশিপেও অংশ নেন। একই প্রতিযোগিতায় ১৯৬৯ সালে তিনি চ্যাম্পিয়ন হন।
নিজের সার্ফিং জীবনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে হ্যাসলক বলেন, ‘কর্নওয়ালের সমুদ্র উপকূলে আমি কখনই কোনো হাঙরের দেখা পাইনি। তবে ডলফিনদের সঙ্গে প্রায়ই আমি পাল্লা দিয়েছি, দেখা পেয়েছি সিলদেরও। একবার আমার কব্জি মচকে গিয়েছিল। এছাড়া আর কোনো দুর্ঘটনায় আমি পড়িনি। আমি আমার সীমাবদ্ধতাকে জানি। বর্তমানে আমি একটি হেলমেট ব্যবহার করছি।’ জীবনে কখনই বিয়ে করেননি হ্যাসলক। সারা জীবন মায়ের সঙ্গেই কাটিয়েছেন। সাত বছর আগেও তার মা বেঁচেছিলেন। আট বছর আগে চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন হ্যাসলক। চাকরিতে থাকাবস্থায় তিনি সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে সার্ফিং করতে গেলেও এখন প্রতিদিনই তা করেন। এছাড়া মাঝে মধ্যে টেনিস কোর্টেও নেমে পড়েন। ওয়েলস, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স এবং পর্তুগালের বিভিন্ন সমুদ্র উপকূলে সার্ফিং করার স্মৃতি আছে তার।
ইদা কিলিং, বয়স ১০৪, নিউ ইয়র্ক
গত শতকের আশির দশকে ৬৭ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো দৌড়াতে শুরু করেছিলেন ইদা কিলিং। এর আগে মাদক সংক্রান্ত বিরোধে ১৯৭৮ ও ১৯৮১ সালে দুই সন্তানকে হারান তিনি। তাদের ছুরিকাঘাত ও গুলি করে হত্যা করেছিল খুনিরা। দুটি ঘটনাই এত দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটেছিল যে, সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ইদা। বিষণ্ণতায় ডুবে গিয়েছিলেন তিনি।
পুত্র হারানো মাকে সান্ত¦না দিতে এসেছিলেন ইদার কন্যা শেরিল। কিন্তু মায়ের এমন ভগ্নাবস্থা দেখে খুবই বিচলিত হয়ে ওঠেন তিনি। শেরিলই প্রথম জোর করে তার মাকে ঘরের বাইরে নিয়ে আসেন এবং দৌড়াতে উদ্বুদ্ধ করেন। এভাবে কয়েক দিনের মধ্যেই বিষণ্ণতা কাটতে শুরু করে ইদার। শরীরে শক্তি ফিরে পান তিনি। প্রতিদিন নিয়ম করে দৌড়ানোর এই অভ্যাস তার এখনো অটুট। দ্য গার্ডিয়ানকে তিনি বলেন, ‘এখন আমার বয়স ১০৪। আমি আর দ্রুত দৌড়াতে পারি না। তবে নির্দিষ্ট গন্তব্য শেষ না করে আসি না।’
যুক্তরাষ্ট্রে সান জুয়ান হিলের হারলেমে বেড়ে উঠেছিলেন ইদা। গরিব পরিবারে অন্য আরও সাত ভাইবোনের সঙ্গে বড় বেড়ে উঠেছেন তিনি। দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হলেও ছোটবেলার অনেক সুখ স্মৃতি রয়েছে তার। তার বাবা প্রায়ই তার সব ভাইবোনকে স্থানীয় একটি পার্কে বেড়াতে নিয়ে যেতেন। সেখানে দৌড়ঝাঁপ, খেলাধুলাসহ নানা ধরনের আনন্দে মেতে উঠতেন তারা। গ্রীষ্মের উত্তপ্ত দিনগুলোতে এ পার্কে শিশুদের জন্য পানির ফোয়ারার ব্যবস্থা করে দিত পুলিশ। হারলেমেই বিয়ে করে সংসারী হয়েছিলেন ইদা।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রাণচঞ্চল হারলেমের চেহারাও বদলে যেতে শুরু করে। একসময় সেখানে মাদকের বিস্তার শুরু হয়। যে যেভাবে পারে অর্থ আয়ে মনোযোগ দেয় হারলেমের মানুষ। আর এ প্রতিযোগিতারই বলি হয়েছিল ইদার দুই সন্তান। সন্তানদের হারিয়ে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি। কিন্তু নিয়মিত দৌড়ের অনুশীলন তাকে পুরোপুরি বদলে দেয়। ৭০-৮০ বছর বয়সেও তিনি খুব দ্রুত দৌড়াতে পারতেন। এমনকি ওই বয়সে তিনি নানা প্রতিযোগিতামূলক খেলায়ও অংশ নিয়েছেন। নিজের বয়সীদের মধ্যে তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এখন আর কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ না নিলেও দৌড়ানোটা তার রক্তের সঙ্গেই মিশে গেছে। এখনো নিজেকেই নিজে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা তার। ১০৪ বছর বয়স হলেও নিয়মিত জিমে যাতায়াত করেন। শুধু তাই নয়, তিনি এখনো তার সাইকেল চালান, বাড়ির বাইরেও নানা কাজ করেন, যুবকদের মতোই বুকডন দিতে পারেন, ওপরে টেনে তুলতে পারেন ভারী কিছুও। ডাক্তার তাকে বলেছেন, ‘আপনি ২৫ বছর বয়সীদের মতোই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী।’
ইদা বলেন, ‘যদি আপনি নিজের জন্য কিছু করতে চান, তবে তা-ই করুন। ব্যর্থ হলে চেষ্টা করুন আবারও।’
ফৌজা সিং, বয়স ১০৯, রেডব্রিজ
ফৌজা সিংয়ের জন্ম ১৯১১ সালে ভারতে পাঞ্জাবের একটি গ্রামে। একটি কৃষক পরিবারে বেড়ে উঠেছিলেন তিনি। কঠোর পরিশ্রম আর সততাকেই সারাজীবন মেনে এসেছেন। শিশু অবস্থায় খুবই দুর্বল ছিলেন ফৌজা সিং। জানা যায়, পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি আরেকজনের সাহায্য ছাড়া হাঁটতেও পারতেন না। কিন্তু সেই বয়সে অন্যদের খেলা দেখে বেশ আনন্দ পেতেন। তিনিও তাদের মতো খেলতে চাইতেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার মধ্যে স্বাভাবিক শক্তি ফিরে আসে। জীবনে কখনো স্কুলে যাননি, তাই কৃষিকাজই ছিল তার পেশা।
১৯৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান ফৌজা সিং। সেখানে তার এক ছেলের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন এবং ‘শিখ ইন দ্য সিটি’ নামে ভারতীয় বংশোদ্ভূত রানারদের একটি গ্রুপে যোগ দেন। এই গ্রুপে তিনি সবচেয়ে বয়স্ক সদস্য।
ফৌজা সিং বলেন, ‘ইংল্যান্ডে আসার আগে আমি কখনই কোনো প্রতিযোগিতামূলক দৌড়ে অংশগ্রহণ করিনি।’
২০০০ সালে প্রথমবারের মতো একটি ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেন ফৌজা সিং। পরে ২০০৩ সালে কানাডার টরন্টোতে আরেকটি ম্যারাথনে অংশ নিয়ে ৫ ঘণ্টা ৪০ মিনিট ৪ সেকেন্ডে ২৬.২ মাইল দূরত্ব অতিক্রম করেন তিনি। তখন তার বয়স ছিল ৯২ বছর। নিজের বয়স ১০০ বছর অতিক্রম করার পর আরও একবার টরেন্টোর ওই ম্যারাথনে অংশ নেন। ওই বয়সেই একনাগাড়ে ৮ ঘণ্টা ১১ মিনিট ৬ সেকেন্ড দৌড়ে তিনি ২৬.২ মাইল দূরত্ব অতিক্রম করেন।
এমন বিশেষ কৃতিত্বের জন্যই ‘নাথিং ইস ইম্পসিবল’-এ বিজ্ঞাপনী প্রচারের জন্য লন্ডনে বসবাসকারী ফৌজা সিংয়ের সঙ্গে চুক্তি করেছিল নামি একটি কোম্পানি।
এখন তার বয়স ১০৯। বর্তমানে হার্নিয়া রোগের কারণে দৌড়াতে না পারলেও প্রতিদিন অন্তত পাঁচ মাইল হাঁটেন তিনি।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ প্রকাশিত)