শনিবার, ১৮-জানুয়ারী ২০২০, ০৯:১০ অপরাহ্ন

বিএনপির হঠাৎ চাঙ্গার নেপথ্যে কী? 

shershanews24.com

প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১০:২০ পূর্বাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: ইতিপূর্বে বেশ ক’বার বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের প্রচেষ্টা নাকোচ হয়ে গেলেও তা নিয়ে কখনো বিএনপি বা তাদের অঙ্গসংগঠনগুলো তেমন একটা মাতামাতি করেনি। বরং অনুগত বিরোধীদলের মতোই আচরণ করে এসেছে। কিন্তু এবার জামিন আবেদনের আগেই এমন একটা কথা রাজনৈতিক অঙ্গনে চাউর হয়েছে যে, আর ছাড় দেবে না তারা। বাস্তবেও দেখা যাচ্ছে তাই। কারাবন্দি দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিকে সামনে রেখে হঠাৎ করেই চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। ইতিমধ্যেই ঢাকায় বিএনপি প্রধানের জামিনের দাবিতে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। নেতাকর্মীরাও বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেছেন। ওই ঘটনায় বিএনপির অন্তত ৫০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও দলীয় প্রধানের কারামুক্তির প্রশ্নে অত্যন্ত শক্ত ভাষায় কথা বলছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে একতরফা আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও এসেছে জোরালোভাবে। সর্বশেষ ৫ ডিসেম্বর জামিনের শুনানির দিনে সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে বড় ধরনের শোডাউন ও হট্টগোল করে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা। পুরো আদালত অঙ্গনে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দেয়ার প্রতিবাদে পরে আইনজীবী এবং বিএনপির পক্ষ থেকে আলাদা কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।
জানা গেছে, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও একাদশ সংসদ নির্বাচন বাতিল করে নতুন নির্বাচনের দাবিতে ধাপে ধাপে রাজপথে কঠোর আন্দোলনে যাবে বিএনপি। ২৬ নভেম্বর হঠাৎ করে হাইকোর্টের সামনে বিক্ষোভ এবং পরবর্তীতে ৫ ডিসেম্বরের শোডাউনের মাধ্যমে সরকারকে তার নমুনাই দেখানো হয়েছে। ভবিষ্যতে পরিকল্পিতভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথ দখলের কথাও ভাবছেন তারা। বিএনপি নেতারা বলছেন, সমাবেশ করতে আর প্রশাসনের অনুমতি নেয়া হবে না। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি নেতারা আহ্বান জানাচ্ছেন, একতাবদ্ধ হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টির জন্য প্রতি নিতে। বিএনপির  স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেছেন, বিএনপি আন্দোলন করবে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে দিনক্ষণ দিয়ে কি কেউ আন্দোলনের কথা বলেন?
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় রাজশাহীতে এক সমাবেশে বলেছেন, ‘রাজপথ জনগণের। এখন থেকে সভা-সমাবেশ করার জন্য প্রশাসনের অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন নেই। এই রাজপথ সরকারের কাছে ইজারা দেয়া হয়নি।’ বিএনপি মহাসচিবও বলেন, ‘আর অনুমতি নেব না, যখন প্রয়োজন সমাবেশ করব।’ বিএনপির নেতারা মনে করছেন, বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকের সভা-সমাবেশ করার অধিকার দেয়া আছে। তাই অনুমতির প্রয়োজন নেই। বিএনপির  স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ভবিষ্যতে পরিকল্পিতভাবে রাজপথ দখলের সংগ্রাম হবে। দলমত নির্বিশেষে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকার পতনের আন্দোলন করবে বিএনপি। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন হুঁশিয়ারির ভাষায় বলেছেন, খালেদা জিয়াকে জামিন দেওয়া না হলে সরকার পতনের এক দফার আন্দোলন হবে। শুধু তাই নয় ২ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এক বিক্ষোভ মিছিল থেকে যেকোনো মুহূর্তে পতনের জন্য প্রস্তুত থাকতে সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। 

টার্গেট ডিসেম্বর!
খালেদা জিয়ার জামিন এবং বিতর্কিত একাদশ সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তির মাসকে ঘিরে ডিসেম্বরেই রাজপথে জোরালো সরকারবিরোধী আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা করেছে বিএনপি। আন্দোলনের অংশ হিসেবে এখন থেকে সভা-সমাবেশ করার জন্য পুলিশের অনুমতির অপেক্ষা না করা, অন্যদিকে হয়রানির প্রতিবাদ হিসেবে সারা দেশে পুলিশের দায়ের করা ‘গায়েবি’ মামলায় একযোগে আদালতে হাজিরা না দেয়ার কথাও ভাবছেন তারা। বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন না হলে ঢাকাসহ সারা দেশেই বড় ধরনের শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। সারা দেশে একযোগে কর্মসূচি পালনের জন্য মাঠে নামার প্রস্তুতির বার্তা এরই মধ্যে তৃণমূলে দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচি নিয়ে দলের নীতি নির্ধারণী মহলে কয়েকদফা বৈঠকও হয়েছে ইতিমধ্যে। 
জানা গেছে, কেন্দ্রীয় নেতারা তৃণমূল সফরে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেছেন। পরে তারা তৃণমূল নেতৃত্বকে একটি বিশেষ বার্তা দিয়ে এসেছেন। ঢাকা মহানগরীসহ আশপাশের জেলাগুলোয় বিশেষ বার্তাও পাঠানো হয়েছে। দল সমর্থিত সব আইনজীবীকে হাইকোর্টে যেতে বলা হয়েছে। নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে ২৮ থেকে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজপথে অবস্থান কর্মসূচির বিষয়টিও ভাবছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। বিএনপির সিনিয়র একাধিক নেতা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপি ডিসেম্বরজুড়েই শান্তিপূর্ণ নানা আন্দোলন-কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে। বিএনপির সূত্রগুলো বলছেন, সামনে আর দোয়া মাহফিল, মানববন্ধন বা আলোচনা সভা নয়। জনসম্পৃক্ত অন্য কিছুও ভাবা হচ্ছে। তবে সব কর্মসূচিই হবে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক। ঢাকা মহানগরী, জেলা ও বিএনপির প্রতিটি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পাশাপাশি ঢাকা মহানগরীর সব কটি ওয়ার্ড থেকে একযোগে গণমিছিল বের করার কথাও ভাবা হচ্ছে। প্রতিটির নেতৃত্বে থাকবেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। হরতালের মতো কর্মসূচি দিয়ে বাসায় বসে থাকার চেয়ে রাজপথে জনবল নিয়ে শক্তি প্রদর্শনকে এখন বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এখন থেকে মিছিল-সমাবেশের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্প্রতি নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অনুমতি না নিয়েই মিছিল-সমাবেশ করার ঘোষণা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় এর ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে ২৬ নভেম্বর মিছিলসহ হাইকোর্টের সামনের সড়ক অবরোধ করেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। সেখানে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াও ঘটে।
সূত্রমতে, আন্দোলন সফলে সাংগঠনিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং যুবদল ও স্বে”ছাসেবক দলকে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির ৮১টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে যে ১৯টিতে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে এসবের দায়িত্বশীল নেতাদেরকে শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারক নেতা বলেছেন, শুধু আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয় তা পরিষ্কার হয়ে গেছে। কারণ আইনি প্রক্রিয়ায় যা যা করা সম্ভব তাদের আইনজীবীরা গত ২১ মাসে তার সবকিছুই করেছেন। এখন সরকারের ই”ছা অর্থাৎ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি ছাড়া শিগগিরই বেগম জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়। তাই সরকারকে চাপ দিতে হলে রাজপথে নামতেই হবে। 

যে কারণে চাঙ্গা বিএনপি
দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে ও পরে কোনো ধরনের আন্দোলনেই ছিলো না। এমনকি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতেও জোরালো কোনো আন্দোলন গড়ে তুলেনি দলটি। কিন্তু সেই দলটিই হঠাৎ করে কেন এতো চাঙ্গা হয়ে উঠলো? দলের শীর্ষ নেতারা সরকার পতনের আন্দোলনে নামার ঘোষণাই বা দিলেন কোন সাহসে? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি মনে করছে ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্কের উষ্ণতা কমতে শুরু করেছে । আর তাই এখন যদি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায় তাহলে হয়তো ভারত বা আন্তর্জাতিক মহল আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নেবে না। সেটা বিএনপির জন্য একটা বড় স্বস্তির কারণ বলে মনে করছে বিএনপি। ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্কের উষ্ণতা যে কমতে শুরু করেছে- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গ সফরকালে তার সঙ্গে ভারত সরকারের আচরণ সেই ধারণাকে আরো পাকাপোক্ত করেছে। 
সৌরভ গাঙ্গুলি ও নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে কলকাতায় গেলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বিমানবন্দরে ন্যূনতম অভ্যর্থনাও জানানো হয়নি। কলকাতার ইডেন গার্ডেনে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার প্রথম দিবারাত্রি টেস্টের উদ্বোধনী আয়োজনে যোগ দিতে সম্প্রতি ভারতে যান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান সৌরভ গাঙ্গুলী আমন্ত্রণ জানালে তা গ্রহণ করেন তিনি। পরবর্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও তাকে আমন্ত্রণ জানান বলে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে খবর প্রচারিত হয়। 
অথচ বাস্তবে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান সৌরভ গাঙ্গুলি। সেখানে মোদীর কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো মন্ত্রী বা প্রতিনিধি ছিলেন না, ছিলেন না পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও।  এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা ২৪ নভেম্বর একটি মন্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যার শিরোনাম ছিল ‘মিত্র হাসিনার শীতল অভ্যর্থনা, কাঠগড়ায় দিল্লি’।  পত্রিকাটি লিখেছে, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে কলকাতায় এলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। কিন্তু তাকে স্বাগত জানাতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনও মন্ত্রী, এমনকি শীর্ষ আমলাকেও পাঠানো হয়নি। যা কি না বাঁধাধরা কূটনৈতিক প্রথা এবং সৌজন্যের বিরোধী।’’
এর আগে গত অক্টোবরে ভারত সফরের সময়ে দিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানান ভারতের সাংসদ তথা নারী ও শিশু কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী।  যদিও ২০১৭ সালের এপ্রিল ভারত সফরের সময় দিল্লি বিমানবন্দরে শেখ হাসিনাকে প্রটোকল ভেঙে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন। 
বাংলাদেশের বিশ্লেষকরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন গণমাধ্যমের সঙ্গে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ড. এম শহীদুজ্জামান বলেন, ‘‘এবারের আচরণে আমার খুব খারাপ লেগেছে।  আমি অবাক হয়েছি। বিমানবন্দরে অন্তত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীতো আসতে পারতেন। ’’
সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন এই প্রটোকলের বিষয়টি দেখেন সম্পর্ক ও যোগাযোগের ধরনের দিক থেকে। তিনি বলেন, ‘‘ইউরোপে যেটা হয়, এক দেশের সরকার প্রধান আরেক দেশে চট করে আধাঘণ্টার নোটিশে চলে যান। সেখানে প্রটোকলের কোনো বিষয় থাকে না।  কিন্তু আমাদের এলাকাতে একটু প্রটোকল সচেতন আমরা।  আমি নিশ্চিত যে মোদী সাহেব যদি কেনো কারণে যাশোরে এসেও হাজির হন তাহলেও আমাদের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অভ্যর্থনা দেয়া হবে।’’ তিনি বলেন, ‘‘এবার অন্ততপক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিসিভ করতে পারতেন।  কিন্তু তাদের হয়তো আরো গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ ছিলো।  প্রটোকলটা আরেকটু বেটার হতে পারত। ’’এছাড়া গত ১১ বছরের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে অস্বস্তির মধ্যে রয়েছে সরকার। এই অস্বস্তির প্রধান কারণ হল, দ্রব্যমূল্য নিয়ে জনগণের অসন্তোষ। বিশেষ করে পেঁয়াজের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং পেঁয়াজের সাথে তাল মিলিয়ে অন্যান্য পণ্যের উর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে অস্বস্তি এবং অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। বিএনপি এই অস্বস্তি এবং অসন্তোষ কাজে লাগাতে চাচ্ছে। তারা মনে করছে, এখন জনমনে সরকারের সম্পর্কে অন্য যেকোন সময়ের থেকে বেশি নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। তাই এই সময়টাকে তারা কাজে লাগাতে চাচ্ছে। 
এদিকে বলা যায়, আওয়ামী লীগ নীরবেই একা হয়ে গেছে। ৭ জানুয়ারি গঠিত মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগ তাদের শরিকদের বাদ দিয়েছে। শরিকরা প্রকাশ্যে কোনো প্রতিবাদ না করলেও কান পাতলে তাদের দীর্ঘশ্বাস শোনা যায়। বিশেষ করে এখন যেহেতু ১৪ দলীয় জোট থেকেও না থাকার মতো। বিএনপি মনে করছে একা আওয়ামী লীগকে আক্রমণ করা সবচেয়ে সহজ।
এছাড়া শুদ্ধি অভিযান নিয়ে আওয়ামী লীগের গুটিয়ে যাওয়াও একটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী লীগের যারা মাঠের কর্মী তাদের একটি বড় অংশই নিজেদেরকে গুটিয়ে নিয়েছে। শুদ্ধি অভিযানের পর আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ জেলে অথবা আত্মগোপনে। তারা দলের জন্য বলে মনে করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের অনুপস্থিতির জন্য মাঠে লড়াই করার শক্তি আওয়ামী লীগ হারিয়ে ফেলেছে বলে মনে করে বিএনপি। এখন আওয়ামী লীগ সরকার এক রকমের বলা যায় পুলিশ অর্থাৎ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। যা দলটির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কখনোই কোনো দলের নয়। এরা ‘হাওয়া’ দেখে অবস্থান নেয়। বোল পাল্টাতে এদের খুব বেশি সময় লাগে না।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ প্রকাশিত)