শুক্রবার, ১৪-আগস্ট ২০২০, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • বিসিআইসির রাজশাহী গুদাম থেকে সার পাচার, দুদকের তদন্ত শুরু

বিসিআইসির রাজশাহী গুদাম থেকে সার পাচার, দুদকের তদন্ত শুরু

shershanews24.com

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৯:৫০ অপরাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: বাংলাদেশ ক্যামিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের রাজশাহী গুদাম থেকে হাজার হাজার টন সার পাচার হয়েছে। সেখানে কর্মচারী ও কতিপয় ডিলারের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী দুর্নীতির সিন্ডিকেট এতে জড়িত রয়েছে। এমনকি এর সঙ্গে সংস্থাটির প্রধান ব্যক্তি, খোদ চেয়ারম্যানও জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করেছে।
গত ১ অক্টোবর দুদক-এর প্রধান কার্যালয় থেকে এ ব্যাপারে রাজশাহীর উপপরিচালক বরাবর একটি চিঠি ইস্যু করা হয়। দুদকের পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল আওয়ালের স্বাক্ষরে ইস্যুকৃত ওই চিঠির বিষয়বস্তু হিসেবে বলা হয়, “জনাব হাইয়ুল কাইয়ুম, চেয়ারম্যান বিসিআইসি ও রাজশাহী সার গুদামের ইনচার্জ জনাব মো. শামীম এর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতপূর্বক অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ।”
জানা গেছে, রাজশাহী বাফার গোডাউনের ইনচার্জ পদে আসার আগে মো. শামীম ইতিপূর্বে যেসব স্থানে কর্মরত ছিলেন প্রত্যেকটি স্থানেই তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এমনকি রাজশাহী গুদামেও তিনি ব্যাপকহারে দুর্নীতি-লুটপাটে জড়িত। তার বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং তাকে শাস্তিমূলক বদলিও করা হয়েছিল। কিন্তু চেয়ারম্যান হাইয়ুল কাইয়ুম কৌশলে তার সেই বদলি ঠেকিয়ে দিয়েছেন। শামীমের গ্রামের বাড়ি নাটোর। সংস্থাটির বর্তমান চেয়ারম্যান হাইয়ুল কাইয়ুমের বাড়ি বগুড়ার নন্দীগ্রামে। নাটোরের পাশাপার্শি উপজেলা নন্দীগ্রাম। আর এ কারণে উভয়ের মধ্যে বিশেষ যোগাযোগ  ও সম্পর্ক রয়েছে। 
সূত্র জানায়, মো. শামীম ইতিপূর্বে বগুড়ায় কর্মরত থাকাকালে বগুড়া ও শান্তাহার গোডাউনে সার চুরির ঘটনা ঘটে। দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করে ওই সার চুরির সঙ্গে শামীমের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে। বিসিআইসি ভবনে কর্মরত থাকাকালে তখনকার চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগসাজশে শামীম সংস্থাটির অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নানাভাবে হয়রানি করেছেন। রাজশাহী বাফার গোডাউনে ইনচার্জ পদে পদায়নের পর পরই দুর্নীতি-লুটপাট শুরু করেন। কিছু দুর্নীতিবাজ ডিলারের সঙ্গে যোগসাজশে তিনি এখানকার উন্নতমানের কাফকো সার গোপনে রাতের আঁধারে অন্যত্র পাচার করেন। এ নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত হয়েছে এবং তদন্তে সত্যতাও পাওয়া গেছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত জুলাই মাসের শেষের দিকে তাকে অন্যত্র শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু চেয়ারম্যান হাইয়ুল কাইয়ুম কৌশলে তাকে সেই শাস্তি থেকে রক্ষা করেন।
জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত রাজশাহী গুদাম থেকে ১১০০০ টন উন্নতমানের কাফকো সার সরবরাহ করা হয়। বিএফএ (বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন) নেতা রবিউল এবং তার ম্যানেজার রিপন এই সারগুলো গ্রহণ করেন। অর্ধশতাধিক ডিলারের স্বাক্ষর জাল করে এই সারগুলো উত্তোলন করা হয়। কিন্তু ডিলাররা পেয়েছে মাত্র ২৫০০ টন। বাকি সার অধিকাংশই পাচার করা হয়েছে। বেশকিছু সার পরিবর্তন করে নষ্ট অর্থাৎ জমাট বাঁধা সার মজুত হিসেবে গুদামে রাখা হয়েছে। গত জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত রাজশাহী বাফার গোডাউনের গেটপাশ, চালান বই ও রেজিস্টার প্রতিবেদন খতিয়ে দেখা এবং এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ডিলারদের সঙ্গে কথা বললেই শামীমসহ গোটা সিন্ডিকেটের অপকর্মের তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।  
সূত্রমতে, এসব অপকর্মের পরও চেয়ারম্যান হাইয়ুল কাইয়ুম গুদাম ইনচার্জ শামীমকে শাস্তি থেকে রক্ষার চেষ্টা চালিয়েছেন। গত ঈদুল আযহার পরের দিন ১৩ আগস্ট বৃষ্টির মধ্যে তিনি পরিদর্শনের নামে রাজশাহী বাফার গোডাউনে যান। আগে থেকেই সবকিছু ঠিকঠাক করা ছিল। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গোডাউন ইনচার্জ মো. শামীম আগে থেকে তার সিন্ডিকেটের ৫/৬ জন দুর্নীতিবাজ ডিলার সেখানে উপস্থিত রাখেন। তারা শামীমের পক্ষে স্বাক্ষী দেন। এভাবে কৌশলে চেয়ারম্যান হাইয়ুল কাইয়ুম ইনচার্জ শামীমকে সেই গোডাউনে রাখার ব্যবস্থা করেন। 
এসব ঘটনা তুলে ধরে গত ১৮ আগস্ট রাজশাহীর ব্যবসায়ী জনৈক মো. ফিরোজ ও আনোয়ার লিখিতভাবে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। তাদের অভিযোগ আমলে নিয়ে দুদক তদন্ত শুরু করেছে।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ২৫ নভেম্বর ২০১৯ প্রকাশিত)
 



..........