বৃহস্পতিবার, ১২-ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:০৬ পূর্বাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • পেঁয়াজকে কেন্দ্র করে ভোগ্যপণ্যের বাজারে নৈরাজ্য

পেঁয়াজকে কেন্দ্র করে ভোগ্যপণ্যের বাজারে নৈরাজ্য

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০৭:১৮ অপরাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: দেশে নিত্যপণ্যের বাজারে চলছে অস্থিরতা। এমনিতেই বেশকিছু দিন থেকে পেঁয়াজের বাজার আগুন, তারপর আবার লবণের গুজব। এরসঙ্গে বেড়েছে চাল, ডাল, তেলসহ সবজির দাম। চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম কমছে না। উল্টো পরিবহন ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে সবজির দাম বেড়েছে। অধিকাংশ সবজির দাম এক সপ্তার ব্যবধানে দেড় থেকে দুই গুণ হয়ে গেছে। এছাড়া তেলের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ৪-৫ টাকা। আটার দাম আগের থেকে ৮ টাকা বাড়তি।
ক্রেতাদের দাবি, বাজারে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে নিত্যপণের দাম। একাদশ সংসদের বেশির ভাগ মন্ত্রী ব্যবসায়ী থাকায় কৌশলে সিন্ডিকেটের সাথে হাত মিলিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার কোটি টাকা, তাই কার্যকরি নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং নেই বাজারে। যে কারণে ধুমধাম করে একটার পর একটা পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। তবে নীতি নির্ধারকরা বলছেন সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে কোনো বিশেষ চক্র এভাবে একটার পর একটা পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, সাধারণ গরিব মানুষের এ কষ্ট বোঝার বা দেখার কেউ নেই। কোনো কিছুর উপরই যেন নিয়ন্ত্রণ নেই, এমন পরিস্থিতি বিরাজমান। সর্বশেষ, নতুন সড়ক পরিবহন আইনকে কেন্দ্র করে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের ধর্মঘট পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর করা ছাড়া কোনো উপায়ও নেই। এদিকে পরিবহন শ্রমিক-মালিকরা সংশোধন করা ছাড়া এই আইন মানবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে পোঁছে তা নিয়ে সবাই শংকিত। 
পেঁয়াজের দামে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস
দেশে পেঁয়াজের বেশিরভাগ চাহিদা পূরণ হয় প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা পেঁয়াজে। সম্প্রতি ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণার খবরে একশ্রেণির ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট নিজেদের মতো করে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির মূল্য দিনে দিনে বাড়িয়েই চলেছে। সরকারের নানামুখী চেষ্টা, নজরদারি কিংবা কঠোর হুঁশিয়ারি কোনও প্রচেষ্টাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না এর মূল্য। 
এদিকে, উঠতে উঠতে এক কেজি দেশি পেঁয়াজ গত ১৫ নভেম্বর ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়। কারও কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। কারও কোনও নির্দেশনাও মানেনি ব্যবসায়ীরা। এই নৈরাজ্যের জন্য ব্যবসায়ীরা একজন আরেকজনকে দায়ী করছেন।
খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি ব্যবসায়ীদের কারণে পেঁয়াজের মূল্য বেড়েছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন আমদানিকারকরা কারসাজি করে মূল্য বাড়িয়েছেন। আর আমদানিকারকরা বলছেন, পেঁয়াজের বাজারে সিন্ডিকেট কাজ করছে। এই সিন্ডিকেটের কারণেই পেঁয়াজের বাজারে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্য বাড়ায় নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ ক্রেতাদের। ফলে জনসাধারণকে এখনও টিসিবির দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ৪-৫ ঘণ্টা পর সংগ্রহ করতে হচ্ছে ১ কেজি পেঁয়াজ। যে লোকটি দুই মাস আগে টিসিবির পণ্য নিতে লজ্জিত বোধ করতো তাকে ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ নিতে সেই লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হতে হচ্ছে।
তবে, সরকারসহ সব শ্রেণির ব্যবসায়ীরা বলছিলেন, বাজারে নতুন পেঁয়াজ না ওঠা পর্যন্ত এই অস্থিরতার অবসান হবে না। কিন্তু অতিরিক্ত লাভের আশায় কৃষক অপরিপক্ক পেঁয়াজ বাজারে তুলছেন দামও পাচ্ছেন বেশ। দেশের উৎপাদিত এসব পেঁয়াজ বেশি দিন সংরক্ষণ করা যাবেনা। এ কারণে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হচ্ছে তা আশা করা যায় না। তাছাড়া সরকার বিভিন্ন দেশে থেকে বিমানে পেঁয়াজ আমদানি করলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা কিছুই না। তাই ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যে গত ২২ নভেম্বর থেকে পেঁয়াজের দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে। এমনকি কোনো কোনো এলাকায় পেঁয়াজের সংকটও দেখা যাচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি ২/৩টি ব্যবসায়িক গ্রুপকে দিয়ে পেঁয়াজের বড় চালান আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ওই বড় চালানের পেঁয়াজ কবে নাগাদ আসবে, তা ঠিক করে বলতে পারছেন না কেউই। এদিকে, গত ৮ নভেম্বর রংপুরে এক অনুষ্ঠান শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী বলেছেন, পেঁয়াজের মূল্য নিয়ে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন তিনি। ১০০ টাকার নিচে আসার সম্ভাবনা আপাতত নেই বলে নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে নিয়েছেন। তারপর থেকেই পেঁয়াজের দাম লাগামহীনভাবে বাড়তে শুরু করেছে।
এ প্রসঙ্গে একজন ভোক্তা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মুসলিম হাসান প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, এমনিতেই বাজার অস্থির। তার ওপর মন্ত্রীদের নানা ধরনের মন্তব্য বাজারকে আরও অস্থির করে তুলেছে। মন্ত্রী যখন বলেন পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকার নিচে নামবে না, তখন কেন ব্যবসায়ীরা মূল্য কমাবেন? তাদের দায়িত্ব বাজার নিয়ন্ত্রণ করা। তারা যখন সেই দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না তখন উচিত চুপচাপ থাকা। তারা তা না করে বাজার অস্থির করার মসলা মেশাচ্ছেন ।
আবির আহমেদ নামে এক কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, মনে হয় যে আমরা আইসল্যান্ডের নাগরিক, জনসংখ্যা এক-দুই লাখ। ১৭ কোটি মানুষের পেঁয়াজের ঘাটতি মেটানোর জন্য বিমানকে ব্যবহার করা হয়েছে। হাসতেও পারি না কাঁদতেও পারি না এখন।
হেলাল আহমেদ নামে এক ব্যক্তি বলেন, একদিকে সরকারের ব্যর্থতা, অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার লোভ। এসব কারণে পেঁয়াজের বাজারে নৈরাজ্য নেমে এসেছে। তারমতে, সরকার আগে থেকে ব্যবস্থা নিলে এমন পরিস্থিতি হতো না। 
জামান করিম নামে এক ভোক্তা বলেন, আসলে দেশ চালানোর জন্য সরকারের হাতে কোনো টাকা নেই, তাই নিত্যপ্রয়োজনী পণ্যের দাম বাড়িয়ে অর্থ আয় করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পেঁয়াজ নিয়ে চলছে নানান আলোচনা। বিয়ে বাড়িতে বর কন্যাকে পেঁয়াজ উপহার, পেঁয়াজের গহনা পরেও কেউ কেউ পোস্ট করছেন।
এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু খুচরা, পাইকারি বা আমদানিকারক একা নন, পেঁয়াজের বাজার অস্থির করার পেছনে সব ধরনের ব্যবসায়ীর হাত রয়েছে। ভারত পেঁয়াজ রফতানি করবে না এমন সংবাদ শোনার পর সব শ্রেণির ব্যবসায়ী নিজের মতো করে মূল্য বাড়িয়েছেন। যিনি যেভাবে পেরেছেন সেভাবেই মূল্য বাড়িয়েছেন। ভারত শর্তসাপেক্ষে সীমিত আকারে পেঁয়াজ রফতানির অনুমতি দিলেও দেশের বাজারে এর কোনও প্রভাব পড়েনি। সাধারণ মানুষ আশা করেছিল, সীমিত আকারে হলেও পেঁয়াজ রফতানির সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য কোনও সুসংবাদ বয়ে আনবে। কিন্তু আনেনি।
পেঁয়াজের পর লবণ আতঙ্ক
পেঁয়াজের টাটকা ক্ষততে ছিটিয়ে দিল লবণ গুজব। লবণের দাম বেড়ে যাবে বলে গত ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যার পর থেকে সিলেট, হবিগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, নেত্রকোণা জেলায় গুজব ছড়ানো হয়। সকাল হতে সেই গুজব ছড়িয়ে পড়ল ঢাকাসহ সারা দেশে। পেঁয়াজ আতঙ্কে গুজবে বিভ্রান্ত হলেন সাধারণ মানুষ। বেশি মুনাফার লোভে বিভিন্ন বাজারে লবণ বিক্রি করা বন্ধ করে দেয় এক শ্রেণির ব্যবসায়ী। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। লবণের দাম বেড়ে যাচ্ছে, লবণ কেনার হিড়িক পড়ে গেল, এমন গুজবে সাধারণ মানুষ লবণ কিনতে ভিড় করেন বিভিন্ন হাটবাজারে। আর দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ীও লবণ গুদামজাত করতে শুরু করেন। জানা গেছে, প্রতি কেজি লবণের দাম ১০০-১২০ টাকা বিক্রি হয় কোনো কোনো এলাকায়।
ঢাকার এক দোকানদার বলেন, এক সপ্তাহে যে লবণ বিক্রি করতেন তা একদিনেই বিক্রি হয়ে গেছে। সবাই অতিরিক্ত নিয়েছে। যে এক কেজি নিতো সে পাঁচ কেজি নিয়েছে। যে পরিমাণ লবণ আমি এক সপ্তাহে বিক্রি করতাম আমি তা একদিনে বিক্রি করেছি।
কুলসুম বেগম নামে এক নারী বলেন, টিভিতে দেখছি। তারপর আত্মীয়-স্বজনরা ফোন করে বলছে লবণ কিনে রাখতে। এই যে এখানে আসার আগেও আমার জা ফোন দিয়ে বলছে লবণ কিনে রাখেন। লবণ পাওয়া যাবে না। 
ঢাকার শাহবাগ এলাকার ফরিদ বলেন, পেঁয়াজ ছাড়া খাবার খাওয়া গেলেও লবণ ছাড়া কিভাবে খাবেন? অনেক কিছু ছাড়া ভাত-তরকারি খাওয়া যায়। কিন্তু লবণ ছাড়াতো খাওয়া যাবে না। পেঁয়াজের দাম এত বেশি! এখন যদি লবণের দামও বাড়ে অথবা বাজারে না পাওয়া যায়? সেই আশঙ্কা নিয়ে বাধ্য হয়ে লবণ কিনতে এসেছি। জানা গেছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল লবণ বিক্রির মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা হাতিয়ে নিয়েছেন তাদের স্বার্থ। যদিও অবশেষে প্রশাসন বিষয়টি শক্ত হাতে সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে। 
লাগামহীন কাঁচাবাজার
এদিকে কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা গেছে, শীতের আগাম সবজি শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগমের পাশাপাশি সব ধরনের সবজির সরবরাহ বেড়েছে। এরপরও কোনো সবজির দাম কমেনি। উল্টো প্রত্যেকটি সবজির দাম এক সপ্তার ব্যবধানে দেড় থেকে দুই গুণ হয়েছে। নতুন করে দাম বেড়ে ফুলকপি প্রতি পিচ বাজারে ৬০-৭০ টাকায় উঠেছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ২৫-৩০ টাকা। তবে এখনও বেগুনের কেজি ৬০-৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তেলের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ৫-৬ টাকা। আটার দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৮ টাকা। ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে পাতাকপি। মুলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। 
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সবজির কোনো ঘাটতি নেই। আড়তে গেলে সব ধরনের সবজি চাহিদা অনুযায়ী কেনা যাচ্ছে। কিন্তু দাম বেশি। যে কারণে আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে যে হারে বাজারে সবজি আসছে তাতে দাম কমে যাওয়া উচিত। বরং উল্টো বাড়ছে। এর কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।
পরিবহনের ধর্মঘট পণ্যের আগুনে তা দিচ্ছে
নতুন সড়ক পরিবহন আইনকে ঘিরে জটিলতা বাড়ছেই। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে সব মহলের দাবির মুখে করা এই আইন সংশোধনের দাবিতে টানা কদিন ধর্মঘট পালন করেছে পণ্য পরিবহন শ্রমিকরা। আন্দোলনের পুরো সময়েই পণ্য ও গণপরিবহন খাতে ব্যাপক নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে শ্রমিকরা। এর ফলে ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের যাত্রী পরিবহন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। পণ্য পরিবহনে এই অচলাবস্থা বাজারে নিত্যপণ্যের দামকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নতুন সড়ক আইনের ৯টি ধারা পরিবর্তন চেয়েছে। এগুলো হচ্ছে: ৭৪, ৭৫, ৭৬, ৭৭, ৮৪, ৮৬, ৯০, ৯৮ ও ১০৫। এর মধ্যে ৮৪, ৯৮ ও ১০৫ ধারা সবচেয়ে কঠোর এবং এর অপরাধে মামলা অজামিনযোগ্য। এর বাইরে চালকের লাইসেন্স-সংক্রান্ত ৬৬ ধারা এখনই প্রয়োগ না করার দাবি করেছে। সড়ক পরিবহন আইন অনুসারে, ৮৪ ধারায় মোটরযানের কারিগরি পরিবর্তনের বিষয়টি রয়েছে। ৯৮ ও ১০৫ ধারায় সড়ক দুর্ঘটনার শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এই তিনটি ধারা সংশোধন করে অপরাধ জামিনযোগ্য করার দাবি জানিয়েছেন মালিক-শ্রমিকেরা। এ ছাড়া এসব ধারায় থাকা তিন লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানাও কমানোর দাবি করেছেন। বাকি ছয়টি ধারায় জরিমানার পরিমাণ কমানোর দাবি করেছে মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো।
কিন্তু এসব দাবি আদৌ সরকারের পক্ষে মানা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, পরিবহন শ্রমিক-মালিকদের লাগাম টেনে ধরার জন্যই এই নতুন আইনটি তৈরির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিলো। সাধারণ মানুষ চায়, সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রণে আসুক। সড়ক পরিবহনে আইনের কড়াকড়ি বাস্তবায়ন চায় তারা। সরকারও এ মুহূর্তে আইন সংশোধন না করার পক্ষে। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের নৈরাজ্য থেকে নিস্তার পাওয়ার আপাতত কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে ভোগ্যপণ্যের বাজারে আরো অস্থিতিশীলতার আশংকা করা হচ্ছে।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ২৫ নভেম্বর ২০১৯ প্রকাশিত)