মঙ্গলবার, ১২-নভেম্বর ২০১৯, ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন

সরকার ও রাজনীতিতে টালমাটাল 

shershanews24.com

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর, ২০১৯ ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: বিরোধীদলের এখন তেমন কোনো তৎপরতা নেই বললেই চলে। তারপরও সরকার, প্রশাসন এমনকি গোটা রাজনীতিতেই এখন এক টালমাটাল অবস্থা চলছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী কে কখন ‘বাটে’ পড়ে যায় এই আতংকে ভুগছে সকলে। বলা যায়, সবাই একরকমের দৌড়ের উপর আছে। দৌড়ে পালানোরও সুযোগ নেই। বিমান বন্দর, এমনকি সীমান্ত পথগুলোও বিশেষ নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। যেখানে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের আত্মীয়স্বজন, যারা এতোদিন নিজেদেরকে প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় ও পরিবারের লোক দাবি করে গর্ববোধ করতেন, বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিতেন এরাই এখন অনেকে নিজেদের  ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং যে কোনো সময় গ্রেফতার বা অন্য কোনো ধরণের সংকটে পড়ার আতংকে ভুগছেন। কাজেই অন্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা  কেউই  এখন  আর  নিজেদেরকে নিরাপদ মনে করছেন না। পাশাপাশি  আওয়ামী লীগ সরকারের সংশ্লিষ্ট বা সরকারের লোক বলে দাবিদার আমলা বা  সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী, ঠিকাদারসহ  বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিগত সময়ের সুবিধাভোগীরাও এক মহাআতংকে আছেন। যদিও এখন পর্যন্ত অভিযান চলছে মূলত ক্যাসিনো কেন্দ্রীক। ক্যাসিনোর বাইরে মাত্র দু’এক জনকে ধরা হয়েছে। তবে এরপর কোন সেক্টর টার্গেট হবে সেটি কেউ বলতে পারছেন না। গ্রেফতারের তালিকা বেশ লম্বা, এমন কথা প্রচারিত হবার পর আতংক তুঙ্গে উঠেছে।
সবচেয়ে বড় ধোঁয়াশা রয়েছে অভিযানের গতি-প্রকৃতি নিয়ে। কারণ একমাত্র প্রধানমন্ত্রী ছাড়া অভিযান সম্পর্কে সরকারের কেউ কিছু আগাম জানছেন না। সরকারের বাঘা বাঘা মন্ত্রী উপদেষ্টা, আমলা, রথী-মহারথীরা কেউই বলতে পারছেন না আগামীকাল কে টার্গেট হবেন। এ কারণে তারা নিজেরাও  নিজেদের নিরাপদ মনে করতে পারছেন না। সবারই এক কথা, সবকিছু জানেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন হঠাৎ এমন পদক্ষেপ নিতে গেলেন তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ক্ষমতার পট-পরিবর্তন বা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কী দৃশ্য দেখা যাবে এটা সবাই অনেক আগে থেকেই জানেন এবং বলেও থাকেন। কিন্তু, আওয়ামী লীগ সরকার বহাল থাকাকালে- এমন নাটকীয় দৃশ্য সম্ভবত কেউ কখনো কল্পনাও করেননি। সেটি বিরোধী পক্ষ হোক বা সরকার পক্ষই হোক।
২০১৪ সাল থেকে আওয়ামী লীগ জোর করে ক্ষমতায় টিকে আছে এটা সবাই জানে এবং স্বীকারও করে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও স্বীকার করেন, ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি এবং ২০১৮ সালে ৩০ ডিসেম্বর যা হয়েছে এগুলো নির্বাচন নয়। জোর করেই তারা ক্ষমতাই আছেন এবং কমপক্ষে ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার পরিকল্পনাও তাদের রয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন জীবিত আছেন  ততদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে এটা নিশ্চিত বলেই ধরে নিয়েছেন তারা। আর এমন নিশ্চয়তায় মহাখুশিতে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, লুটপাট এবং  আমোদ-প্রমোদের খেলায় মেতে আছেন অনেকে। অনেকে লুটপাটের অর্থ বিদেশ পাচার করছেন। বিদেশে ফ্ল্যাট, বাড়ি এমনকি  ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও খুলেছেন। এতো অর্থ কি করবেন, অর্থ খরচ করারও  পথ পাচ্ছেন না! তাই ঝুঁকে পড়ছেন জুয়া, মদ এবং আধুনিক জুয়া ক্যাসিনোতে। থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের ক্যাসিনোতে জুয়া-মদ-নারীতে অর্থ খরচ করছেন। কিন্তু বিদেশেতো আর সর্বক্ষণ থাকা যায় না। নানা কাজে দেশে থাকতে হয়। তাই দেশে থাকার সুবিধার জন্যই গড়ে ওঠেছে ক্যাসিনো এবং আমোদ-প্রমোদের সা¤্রাজ্য। আর সেই ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করেই হঠাৎ শুরু হয়েছে সরকারের দুর্নীতি বিরোধী ধড়-পাকড় অভিযান।
কিন্তু হঠাৎ কেন এমন উল্টো গতি সরকারের। ‘উল্টো গতি’ বলার কারণ এই যে, গত প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারই এদের আশ্রয়-প্রশ্রয় এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বলা যায় সহযোগিতা দিয়ে এ পর্যন্ত টেনে তুলেছে। আবার সরকারই  কেন এদেরকে ধপাস করে মাটিতে ফেলে মাটিচাপা দিয়ে  জীবন্ত কবর দিতে চাইছে- এর  সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারছেন না। কেউ বলছেন, এরা সরকারের জন্য ক্ষতিকর বা বিপর্যয়কর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কেউ বলছেন, সরকার ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে চাইছে। আবার কেউ বলছে, দলে এবং সরকারে শুদ্ধি অভিযানের জরুরি ছিল। কিন্তু এসব বক্তব্যের কোনোটির পক্ষেই গ্রহণযোগ্য যুক্তি খুঁজে পাওয়া  যাচ্ছে না। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বলেছেন, আবার যাতে ওয়ান ইলেভেন না হয় সেটি ঠেকাতেই তিনি এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের পর অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে, তাহলে কী ওয়ান ইলেভেন হতে যাচ্ছিল? যদি তা-ই সম্ভাবনা থাকে, তিনি কী আদৌ এমন প্রক্রিয়ায় সেটি ঠেকাতে পারবেন?
এসব প্রশ্নের যখন কোনো সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না তার মধ্যেই ঘটছে একের পর এক অঘটন। সর্বশেষ, রাশেদ খান  মেননের বক্তব্য সরকারকে আরো গভীর চিন্তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। বিশেষ করে তিনি মাত্র ৪/৫ দিনের ব্যবধানে দুটো বড় উক্তি করেছেন। ‘গত ১০ বছরে ৯ লাখ কোটি টাকা  বিদেশে পাচার হয়েছে’ ‘আমি সাক্ষ্য দিয়ে বলছি- গত নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। আমি নিজেও ভোট......’ তার এমন বক্তব্যের পর  সরকার থেকে  প্রচন্ড চাপ আসে তার ওপর। তিনি বাধ্য হন পরদিন একটি বিবৃতি দিতে। তবে ‘এভাবে বলিনি, বক্তব্য ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আমার পুরো বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়নি’- এমন বিবৃতির পর পরই রাশেদ খান মেনন একটি ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় সাক্ষাতকার দিয়ে বলেন, আমি যা বলেছি সেটি থেকে পিছপা হবো না। সত্য কথা বলেই যাবো। বস্তুত প্রচ- চাপের কারণে মেনন কোনো বক্তব্যেই স্থির থাকতে পারছেন না। যদিও মোহাম্মদ নাসিম ‘মেননের বক্তব্যে কোনো প্রভাব পড়বে না’ বলে উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন কিন্তু বাস্তবতা তা নয়। সরকার এবং আওয়ামী লীগ বিষয়টাকে ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করছেন। মেনন এখন মুখে বলছেন, কিন্তু নির্বাচন কমিশন তো ইতিমধ্যে অফিসিয়ালিই স্বীকার করে নিয়েছে ২৩৫ কেন্দ্রে একশ’ ভাগ ভোট পড়ার কথা। সর্বশেষ গত ২৫ অক্টোবর ১৪ দলের পক্ষ থেকে রাশেদ খান মেননকে শো’কজ করা হয়েছে। মেনন বলেছেন, এর গ্রহণযোগ্য জবাবও তিনি দেবেন। তাতে আর ভুল বুঝাবুঝি থাকবে না। তবে মেনন ওইদিন যা বলেছেন, সেটিতো টেলিভিশনের ফুটেজেই আছে। অবশ্য, মেননের বক্তব্যেই নয়, সাম্প্রতিক প্রতিটি ঘটনাকেই সরকার অত্যন্ত সিরিয়াসলি দেখছে। যেমন- আবরার হত্যা, শিক্ষকদের আন্দোলন, ভোলার ঘটনা- প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবেলা করার চেষ্টা করছে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা কেমন যেন এক অজানা আতংকে ভুগছেন। সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। সর্বশেষ গত ২৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, কিছু দূতাবাস এ দেশে নতজানু সরকার চায়। ‘কিছু দূতাবাস’ বললেও তিনি বক্তব্যে শুধুমাত্র মার্কিন দূতাবাসের নাম উল্লেখ করেন। কিন্তু এর বাইরে অন্যদের কী ভূমিকা তা তিনি উল্লেখ না করলেও এটা নিশ্চিত যে, প্রতিবেশি ভারত এমনকি চীনের সঙ্গেও আওয়ামী লীগ সরকারের বর্তমান সম্পর্ক ইতিবাচক নয়। বিগত সময়গুলোতে চীন আওয়ামী লীগ সরকারকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে একচেটিয়াভাবে সমর্থন দিয়ে আসছিলো। গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনও ভারতকে কোনোরকমের ভূমিকা রাখতে না দিয়ে পুরোপুরি চীনই সম্পন্ন করে দিয়েছিলো। সরকার যখন পুরোপুরি চীন নির্ভর সেই সময়েই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে গিয়ে ‘বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় পর্যবেক্ষণ রাডার বসানো’র মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি চুক্তি করে এলেন। যে চুক্তিটি চীনের জন্য মহা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চীন এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর অত্যন্ত অসন্তুষ্ট। অথচ যে ভারতের সঙ্গে চুক্তির কারণে চীন ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট হলো সেই ভারতও ভালো আচরণ করছে না। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের যে ভাঙনের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল এই চুক্তির পরও তা জোড়া লাগেনি। বরং মনে করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের চেষ্টায় চুক্তিটা করিয়ে নেয়ার পর এখন তারা ভেতরে ভেতরে আগের চেয়েও খারাপ আচরণ করছে এবং দু’দেশের সম্পর্কের আরো কিছুটা অবনতিও ঘটেছে। সর্বশেষ কয়েকটি ঘটনায় এর প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমন- পেঁয়াজের সরবরাহ আগে কিছুটা চালু থাকলেও এখন পুরোপুরিই বন্ধ, সীমান্ত থেকে র‌্যাব সদস্যদের ধরে নিয়ে যাবার পর আধামরা করে চোখ-হাত বেঁধে ফেরত দেয়া, গুলিতে বিএসএফ সদস্যের মৃত্যুর পরের প্রতিক্রিয়া এবং সীমান্ত থেকে বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে হত্যার পর ৪ দিন লাশ আটকে রাখা প্রভৃতি। আশংকা করা হচ্ছে, এরপর আরো বড় কোনো অঘটনও সীমান্তে হয়তো দেখা যেতে পারে। 
এখন প্রশ্ন হলো, বর্তমান অভিযান কতদূর এগোবে? যে তালিকার কথা বলা হচ্ছে তাতে কার নাম আছে বা নেই সেটিও পরিষ্কার নয়। তাছাড়া ‘তালিকা’র অতীত অভিজ্ঞতাও ভালো নয়। অতীতে দেখা গেছে, যখন কোনো পট-পরিবর্তন হয়েছে সাথে সাথে তালিকা তৈরি হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী গ্রেফতার অভিযানও শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষও বেশ খুশিমনে তাতে ব্যাপক সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু যখন কর্মসূচি অসমাপ্ত রেখে এক পর্যায়ে গ্রেফতার বন্ধ হয়ে গিয়েছে অথবা বড় অপরাধীকে ছেড়ে বেছে বেছে ছোট অপরাধীকে ধরা হয়েছে সাথে সাথেই কড়া সমালোচনা শুরু করে দিয়েছে। মানুষ মনে করেন, অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে জবাবদিহীতা নিশ্চিত করতে হলে মূল অভিযানের মধ্যেই স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহীতা থাকতে হবে। বর্তমান অভিযান নিয়ে মানুষের মধ্যে শুরুতেই এক ধরনের সন্দেহ অবিশ্বাস কাজ করছে। এ অভিযান আদৌ সঠিক পথে এগোবে কিনা, নাকি অতীতের মতো এক পর্যায়ে মুখ থুবড়ে পড়বে?
তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কেন এ অভিযান? সবাই এর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগেরই কেউ কেউ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের অনেককেই এখন সন্দেহের চোখে দেখছেন। তিনি মনে করেন, দলের মধ্য থেকেই ষড়যন্ত্রের উৎপত্তি হবে। তাছাড়া যে কারণেই হোক তিনি এখন দলের উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করতে চাচ্ছেন। ইতিপূর্বে সজীব ওয়াজেদ জয়কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উত্তরাধিকারী হিসেবে ভাবা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এর পরিবর্তন হয়েছে। ইতিমধ্যে একাধিক গণমাধ্যমে এই মর্মে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকেই উত্তরাধিকারী হিসেবে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন এবং সেটি অতি শীঘ্রই। দেশে-বিদেশে পুতুলকে নিজের সঙ্গে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়াও এর লক্ষণ। কিন্তু পুতুলের হাতে কর্তৃত্ব দিতে হলে পার্টিকে তার উপযোগী করে তুলতে হবে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, পার্টির মধ্যকার শুদ্ধি অভিযানের মধ্য দিয়েই পুতুলের দায়িত্ব গ্রহণের পথ মসৃন করতে চান প্রধানমন্ত্রী। আর সেই কারণেই এই অভিযানের অপরিহার্যতা দেখা দিয়েছে।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ২৮ অক্টোবর ২০১৯ প্রকাশিত)