মঙ্গলবার, ১২-নভেম্বর ২০১৯, ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন

স্বাস্থ্যখাতে গডফাদার মিঠু এখনো বেপরোয়া

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর, ২০১৯ ১২:০১ অপরাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: স্বাস্থ্যখাতে নানা দুর্নীতির খবর বেরিয়ে আসছে গত ক’মাস ধরে। এমন সব আজগুবি ধরনের কেনাকাটার খবর প্রকাশিত হচ্ছে, যা দেখে সাধারণ মানুষের চোখ কপালে উঠে যাবার মতো অবস্থা! হাসপাতালের আইসিইউ বেডের জন্য প্রতি পিস পর্দার দাম পড়েছে ৩৭ লাখ টাকা। এছাড়া এক পিস বালিশের কভার ২৮ হাজার টাকা, প্রতিটি স্যালাইন স্ট্যান্ড ৬০ হাজার টাকা, ৫ হাজার টাকার বই ৮৫ হাজার টাকায় কেনা সাম্প্রতিক প্রকাশিত কিছু খবর। এগুলো সবই স্বাস্থ্যখাতের। সর্বশেষ চট্টগ্রাম চিকিৎসা বিশ^বিদ্যালয়ের কেনাকাটায় যাবতীয় অনিয়ম আর চোখ কপালে তোলা দুর্নীতির চেষ্টার কথা এখন নতুন করে ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’তে পরিণত হয়েছে। অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের স্বাস্থ্যখাত সব সময়ই দুর্নীতির একটি মহাখাত হিসেবে চিহ্নিত। তবে গত এক দশকের বেশি সময় ধরে এই খাতে দুর্নীতির মূল চাবিকাঠি একজনের হাতে। ওই ব্যক্তির নেতৃত্বে গঠিত একটি সিন্ডিকেট প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দুর্নীতির এই কলকাঠি নাড়ছে, স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতির সেই গডফাদার হলেন মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু। স্বাস্থ্যখাতে বর্তমানে যেসব দুর্নীতির খবর বেরিয়ে আসছে অর্থাৎ কেনাকাটায় অকল্পনীয় দাম নিয়ে যে অভিযোগ তা মানুষের মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টি করলেও টাকার অংকের বিচারে মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেটের দুর্নীতির কাছে এসব দুর্নীতি কিছুই না, এমনটাই মনে করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। গত এক দশকে গডফাদার মিঠু সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে প্রভাবশালী দুই স্বাস্থ্যমন্ত্রী চাকরি হারিয়েছেন। এক দফায় মন্ত্রীত্বের পর দ্বিতীয়বার আর মন্ত্রী হতে পারেননি, কিন্তু এখনো সেই মিঠুর কিছুই হয়নি। এখনো পুরো স্বাস্থ্য খাত সমান দাপটে দাবড়ে বেড়াচ্ছে গডফাদার মিঠু। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো এ খবর নিশ্চিত করেছে।
মিঠু সিন্ডিকেট
স্বাস্থ্য খাতে গত প্রায় ১১ বছর ধরে সবচে’ আলোচিত যে নাম তা হচ্ছে মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু। এ সময়ে দেশে সরকারে পালাবদল না হলেও তিনটি সরকার এসেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন দুইজন মন্ত্রী, এখন করছেন আরেকজন। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়েও স্বাস্থ্যখাত থেকে যার আধিপত্যের কখনোই বিদায় ঘটেনি তিনি হচ্ছেন এই মিঠু। ২০০৯ সালের নির্বাচনের পর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান ডা. আফম রুহুল হক। তার সময় থেকেই এ মন্ত্রণালয়ের নানা কাজে বিশেষ করে নির্মাণ, কেনাকাটা আর সরবরাহের ক্ষেত্রে একচ্ছত্র আধিপত্য এই মিঠুর। এ সময়ে মন্ত্রণালয়ের হাজার হাজার কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিয়েছে মিঠুর নামে-বেনামে প্রতিষ্ঠানগুলো। এরপর মোহাম্মদ নাসিম স্বাস্থ্যমন্ত্রী হন, প্রথমে তিনি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কড়া বক্তৃতা দেন কিন্তু এক পর্যায়ে তা শুধু বক্তৃতায়ই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। খুব একটা সমস্যা হয়নি মিঠুর। মন্ত্রীকে হাত করেই কাজ নিয়েছেন তিনি। মিঠুর কাজ নেয়ার কৌশল একটু ভিন্নধরণের বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা জানিয়েছেন, শুধু এককালীন ঘুষ দিয়েই তিনি কাজ নিতেন না, মন্ত্রী-সচিবদের পরিবারের সদস্যকে ব্যবসায়িক অংশীদার করে কিংবা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যবসায়িক অংশীদার করে তিনি কাজ পাওয়া নিশ্চিত করতেন। গডফাদার মিঠুর দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ইলেকট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন মিডিয়া, প্রথম শ্রেণির বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকসহ সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজেও ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৯ সালের ২১ জানুয়ারি সংখ্যায় ‘স্বাস্থ্যখাতে কয়েক হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে মিঠু সিন্ডিকেট’ শিরোনামের এক প্রতিবেদনে ছোট একজন ঠিকাদার থেকে মিঠুর গডফাদারে পরিণত হওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। মিঠু সিন্ডিকেটেরই আরেক সদস্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের আবজালের সম্পত্তি নিয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ‘কেরানি আবজালের সম্পদ কত?’ অন্যান্য গণমাধ্যমেও মিঠু সিন্ডিকেটের দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রতিবেদন প্রচার ও প্রকাশ হয়েছে। তাদের দুর্নীতির বিশালতা দেখে মানুষ বিস্মিত হলেও মিঠু রয়ে গেছেন নিরাপদেই। এটা সবাই জানে, মিঠুর তুলনায় আবজাল নস্যি মাত্র। গডফাদার মিঠুর হাত ধরেই আবজালের উত্থান। কিন্তু শিষ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলেও গডফাদার এখনো রয়েছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।
মন্ত্রীপরিবারে সাথে ঘনিষ্ঠতা কৌশল
মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু মূলতঃ মন্ত্রীদের হাত করেই প্রায় ১১ বছর ধরে স্বাস্থ্যখাত দাবড়ে বেড়াচ্ছেন। আফম রুহুল হক মন্ত্রী থাকাকালে মিঠু প্রথমে তার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন এবং একচেটিয়াভাবে একের পর এক কাজ হাতিয়ে নিতে থাকেন। অবৈধ প্রক্রিয়ায় কাজ বাগিয়ে নেয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে মালামাল সরবরাহ না করেই বিল তুলে নিয়েছেন। আবার যেসব ক্ষেত্রে মালামাল সরবরাহ করেছেন সেগুলোও অত্যন্ত নিম্নমানের এবং তা টেন্ডার স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী নয়। এমনকি একই মালামালের বিল একাধিকবার তুলে নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদার মিঠুর বিরুদ্ধে। এভাবে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নেয়া হয়েছে। এর ভাগ পেয়েছেন তৎকালীন মন্ত্রীও। পরে একপর্যায়ে মন্ত্রীর স্ত্রী ও ছেলেকেও হাত করেন তিনি। ঠিকাদার মিঠু ও মন্ত্রীর ছেলে জিয়াউল হকের সাথে যৌথভাবে রাজধানীর শ্যামলীতে সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। 
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আফম রুহুল হকের স্থলে অধিষ্ঠিত হন মোহাম্মদ নাসিম। মন্ত্রী পদে নতুন মুখ আসায় সাময়িক একটু বেকায়দায় পড়েন রংপুরের গঙ্গাচরার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু। তবে তা কাটিয়ে উঠতে খুব বেশি সময় নেননি তিনি। নাসিমের পরিবারের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে তার। জানা গেছে, রুহুল হকের মতো মোহাম্মদ নাসিমের পরিবারের সাথে ঘণিষ্ঠতা তৈরি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে নিজের প্রভাব-প্রতিপত্তি ফিরে পান মিঠু। এক্ষেত্রে তাকে সহায়তা করে মন্ত্রীর ছেলে তমাল। জিয়াউল হককে ব্যবসায়িক অংশীদার করে যেভাবে রুহুল হককে হাত করেছিলেন মিঠু একই কায়দায় তমালকে হাত করে মোহাম্মদ নাসিমের অনুগ্রহভাজন হতে সক্ষম হন তিনি।
বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক দীর্ঘদিন এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন কিন্তু মন্ত্রী তার হাতে থাকায় প্রতিমন্ত্রীর দ্বারস্থ হতে হয়নি মিঠুকে। এবার জাহিদ মালেক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ ও একক মন্ত্রী, তাই শুরুতে দু’একমাস কিছুটা চুপসে থাকলেও একই কৌশলে আবার পূর্বের দাপটে ফিরে এসেছেন মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু। বিশেষ করে অর্থবছরের শেষদিকে গত মে-জুন মাসে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের যন্ত্রপাতি সরবরাহের শত শত কোটি টাকার কাজ নামে-বেনামে অবৈধভাবে বাগিয়ে নিয়েছেন মিঠু। মালামাল যথাযথভাবে সরবরাহ না করে বিলও তুলে নিয়েছেন এর অনেকগুলোর। 
যেভাবে কাজ করে মিঠুর সিন্ডিকেট
স্বাস্থ্য অধিদফতরে কেরানি আবজাল হোসেনের দুর্নীতির অনুসন্ধান করতে গিয়ে স্বাস্থ্যখাতের প্রায় সর্বত্রই উঠে এসেছে মিঠুর নাম। দেখা যাচ্ছে, সর্বত্রই ছড়ানো আছে তার জাল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর, সিএমএসডি, দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো, ওষুধ প্রশাসন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগসহ এ মন্ত্রণালয়ের সব অধিদফতর, দফতর ও বিভাগে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মিঠুর নেটওয়ার্ক। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকতা বলেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন কোন কাজে মিঠুকে না করা কিংবা তার চাওয়া অনুযায়ী কাজ না দিয়ে উপায় নেই। মিঠু সিন্ডিকেট এত শক্তিশালী ও তৎপর যে, কোথাও কোন কাজের জন্য মিঠু বা তার সিন্ডিকেট যদি টেন্ডারে অংশ নেন তাহলে সে কাজ তাদের না দিয়ে কোন উপায় থাকে না।
শুধু আহ্বানকৃত কাজই নয়, অনেক সময় মিঠু সিন্ডিকেট সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য নিজেরাই প্রকল্প তৈরি করে তা অনুমোদন করিয়ে আনে, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও ছাড় দেয়ার কাজটিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে করিয়ে নেয় এই সিন্ডিকেট। কোন হাসপাতালে যন্ত্রপাতি লাগবে, কোন ধরণের যন্ত্রপাতি লাগবে সবকিছু আগে থেকে জেনে যায় এই সিন্ডিকেট। অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতালের কী যন্ত্রপাতির প্রয়োজন সেই চাহিদাও নির্ধারণ করে দেন মিঠু এবং তার লোকজন। প্রয়োজন নেই এমন ধরণের অনেক যন্ত্রপাতি কেনা বা সরবরাহের জন্য অনুমোদন করিয়ে সেই অর্থের পুরোটাই লোপাট করে দিয়েছেন, এমন নজিরও রয়েছে মিঠু ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের। 
আবার কখনো কখনো যে মানের এবং যে দেশের যন্ত্রপাতি সরবরাহের কথা টেন্ডারে উল্লেখ থাকে, সরবরাহ করা হয় তার চে’ অনেক নি¤œ মানের যন্ত্রপাতি। কাজ দেয়া থেকে শুরু করে যন্ত্রপাতি বুঝে নেয়া পর্যন্ত সব পর্যায়েই রয়েছে মিঠুর লোক, তাই কোন ধরণের জিনিস দিয়ে কত টাকা নিয়ে গেল তা নিয়ে কেউই প্রশ্ন তোলে না। কখনো কখনো কোন সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তা এ নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাকে নানাভাবে হেনস্তা ও হয়রানি করা হয়।
স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি বা অনিয়মের ভূক্তভোগী সরাসরি সাধারণ মানুষ। স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশনও ইতিপূবে একাধিকবার প্রতিবেদন পেশ করেছে এবং তা দূর করার ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছে। এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি আর অনিয়ম নিয়ে সংসদেও কথা হয়েছে। বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী আগে এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন এ কথা উল্লেখ করে একজন সংসদ সদস্য এ মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির দায় বর্তমান মন্ত্রী এড়াতে পারেন না বলে মন্তব্য করেন। ওই সাংসদের বক্তব্যের রেশ টেনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী আসলে দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লড়ছেন, ওই সিন্ডিকেটই হচ্ছে মিঠুর নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট। তিনি বলেন, আগে এই সিন্ডিকেট দু’জন মন্ত্রীর সরাসরি আনুকূল্য পেয়েছেন, সেই আনুকূল্যের সুযোগে মিঠু সিন্ডিকেট শুধু স্বাস্থ্যখাতের হাজার হাজার কোটি টাকার কাজই হাতিয়ে নেয়নি বা করেনি এ মন্ত্রণালয়ের ওপর দীর্ঘকাল কার্যকর থাকবে এমন একটি বলয়ও তৈরি করে রেখেছে। সেই চক্রের জোরেই মিঠু সিন্ডিকেট এখনো দু’হাতে কাজ বাগিয়ে নিতে পারছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, মিঠুর শক্তির উৎস হচ্ছে বিভিন্ন হাসপাতালসহ পুরো স্বাস্থ্যখাতে তার হয়ে কাজ করা শীর্ষ কর্তারা। কোন কোন হাসপাতালের পরিচালকও তার লোক, ফলে হাসপাতাল পর্যায়ের উন্নয়নের কাজ পেতে মিঠুকে খুব বেশি বেগ পেতে হয় না। আর মিঠু সরাসরি উপঢৌকন পাঠিয়ে কিংবা কমিশনের প্রস্তাব দিয়েও অনেককে হাত করে ফেলেন। এছাড়া মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সরকারের যে কোনও পর্যায়ের কর্মকর্তাকেও মিঠু নানাভাবে কব্জায় নিয়ে আসেন। এজন্য সরাসরি নগদ অর্থ দেয়া ছাড়াও সপরিবারে বিদেশ ভ্রমণ, গাড়ি কিনে দেয়া, দামি বিলাসি আসবাপত্র কিনে দিয়েও মিঠু প্রভাবশালীদের পরিবারের সদস্যদের তার প্রতি আকৃষ্ট করে ফেলেন। 
এক সময় মিঠু নিজে সরাসরি তদবির করতেন, কিন্তু গত ক’ বছরে তার প্রভাব এতটাই বেড়েছে এবং স্বাস্থ্যখাতের সব সেক্টরেই তার লোক হয়ে যাওয়ায় এখন আর তাকে সরাসরি কোন ফাইলের জন্য তদবির করতে হয় না। তার হয়ে তদবির করার লোকের অভাব নেই। কোন কর্মকর্তা যদি এই সিন্ডিকেটের কথা মত কাজ না করেন তাহলে তাকে নানাভাবে হয়রানি ও নিগৃহিত করা হয়। মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ ব্যক্তিরা যেহেতু মিঠুর নিয়ন্ত্রণে থাকেন, তাই স্বাস্থ্যখাতের যে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তিনি যে কোনো সময় বদলি হয়রানি করতে পারেন।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ১৪ অক্টোবর ২০১৯ প্রকাশিত)