সোমবার, ১৮-নভেম্বর ২০১৯, ০৯:৫০ অপরাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • চিড়িয়াখানার দুর্নীতি আর অপকর্মের এক নাটের গুরু

চিড়িয়াখানার দুর্নীতি আর অপকর্মের এক নাটের গুরু

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০৬:৩৯ অপরাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: তিনি একজন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। পদের নাম উপজেলা লাইভস্টক অফিসার (লিভ রিজার্ভ)। অনেকটা প্রশাসনের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওএসডি’র মতো পদ। নির্দিষ্ট কার্যালয় নেই, বসার জন্যও নেই চেয়ার টেবিল। এমনটা হওয়াই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু এই স্বাভাবিক বিষয়গুলোই অস্বাভাবিক একজনের ক্ষেত্রে। নাম তার অসীম কুমার দাস। উপজেলা পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা হয়েও তিনি কখনো নিজেকে পরিচয় দেন ঢাকা চিড়িয়াখানার কর্মকর্তা, কখনো প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের আইন কর্মকর্তা হিসেবে আবার কখনো নিজেকে পরিচয় দেন চিড়িয়াখানার এস্টেট অফিসার হিসেবে।
অসীম কুমার দাসের এসব অপকর্ম নিয়ে সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজে ইতিপূর্বে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সর্বশেষ জানা গেছে, ঢাকাস্থ জাতীয় চিড়িয়াখানা কেন্দ্রীক অসীম কুমার দাসের আরো নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কাহিনী। ঢাকা চিড়িয়াখানায় উন্নয়ন কর্মকা- থেকে শুরু করে জমি-জমা বেদখল এবং পশু-পাখির খাবার বাবদ বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যাপকহারে লুটপাট হয়ে থাকে। এসব দুর্নীতি-অপকর্মের নাটের গুরু এই অসীম কুমার দাস। চিড়িয়াখানা আধুনিকীকরণ প্রকল্পের অধীনে বর্তমানে যে উন্নয়ন কর্মকা- চলছে সেই টেন্ডার দুর্নীতিতেও অসীম কুমারের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। টেন্ডার কারসাজি এবং উন্নয়ন কর্মকা-ের নামে অর্থ লুটপাটের এ ঘটনায় অসীম কুমার মূল ভূমিকায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৯ আগস্ট ২০১৯ প্রকাশিত শীর্ষ কাগজের ৪৩তম সংখ্যায় ‘দুর্নীতির ৮ মামলার আসামিকে চিড়িয়াখানার আধুনিকীকরণ কাজের পরামর্শক নিয়োগ’ শিরোনামে এ লুটপাটের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
জানা গেছে, পদায়নের পদ অনুযায়ী যার নির্ধারিত অফিসই থাকার কথা নয় এমন একজন কর্মকর্তা হয়েও অসীম কুমারের আছে দু’টি অফিস। একটি প্রাণিসম্পদ অধিদফতরে আরেকটি চিড়িয়াখানায়। তবে এই দুই অফিসের কোনটিই তিনি পদাধিকার বলে পাননি বা তার নামে কর্তৃপক্ষ বরাদ্দও করেনি। অবৈধভাবে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দু’টি অফিসের দখল নিয়ে আছেন অসীম। প্রশ্ন উঠেছে অসীমের এই সীমাহীন সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কারণ কী? এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই সব করে তিনি ঢাকাতেই চাকরি করছেন। বদলি করা হলেও তাকে নতুন কর্মস্থলে পাঠানো যায়নি। তিনি কাজী আলাউদ্দিন রোডে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরে কর্মরত থাকাকালে নারীঘটিত কেলেংকারির অভিযোগে অভিযুক্ত হলে তাকে পাঠানো হয় চিড়িয়াখানায়। চিড়িয়াখানায় গিয়েই নিজের ভাগ্য খোলার রাস্তা পেয়ে যান অসীম কুমার দাস। 
শুধু দু’স্থানের দু’টি অফিসই নয়, ষষ্ঠ গ্রেডের এ কর্মকর্তার সরকারিভাবে কোন গাড়ি পাওয়ারও কথা নয়, কিন্তু তিনি বিভিন্ন প্রকল্পের একাধিক গাড়ি নিজের দখলে রেখে সার্বক্ষণিক ব্যবহার করছেন বলে জানিয়েছেন চিড়িয়াখানা ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র। গাড়ি চালকের বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় হয় ৫০ হাজার টাকার মতো। এছাড়া তেল, রক্ষণাবেক্ষণেও খরচ হচ্ছে প্রচুর পরিমাণ টাকা। এ টাকা সরকারি কোষাগার থেকেই যাচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, চিড়িয়াখানার এস্টেট অফিসার হিসেবে নিজেকে জাহির করতে চিড়িয়াখানার সম্পত্তি অবৈধ দখলমুক্ত করার নামে লোক দেখানো পদক্ষেপ নেন অসীম কুমার দাস, বস্তুত এটি সরকারি সম্পত্তি বেহাত করার অপকৌশল বা চক্রান্ত ছাড়া কিছুই নয়। ভূমিখেকোদের দিয়ে সরকারি জমি দখল করিয়ে নেন তিনি। আবার অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলাও ঠুকে দেন। তবে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞজনরা বলছেন, তার এ কৌশল পুরোপুরিই অশুভ চক্রান্ত, কেন না অবৈধ দখলে থাকা সরকারি সম্পত্তি দখলে নিতে সরকারের মামলা করার কোন প্রয়োজন নেই। বিভিন্ন সময়ে আবার উল্টোটা ঘটতেও দেখা যায়। সরকার উচ্ছেদ শুরু করলে তার বিরুদ্ধে মামলা করে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধ করে অর্থাৎ এক্ষেত্রেও তিনি সরকারি স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করেন। অর্থাৎ মামলাকে সবসময়ই ব্যবহার করা হয় উচ্ছেদের বিরুদ্ধে। অসীম কুমার দাস সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের নামে মামলা করে ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরির রাস্তা করে রাখেন। জানা গেছে, এসব প্রক্রিয়ায় তিনি অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা নিয়ে তাদের সেখানে বসবাসকে অনেকটা স্থায়ী করে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি নিজেই মামলা করতে বস্তিবাসী ও অবৈধ দখলদারদের প্ররোচনা দিয়ে থাকেন এবং মামলার যাবতীয় কাগজপত্র আর গোপনীয় নথি তিনি আগে-ভাগেই পৌঁছে দেন অবৈধ দখলদারদের হাতে। অর্থাৎ অসীম কুমার সরকারি চাকরি করছেন, সরকারের বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা নিয়ে উল্টো সরকারেরই সম্পত্তি বেহাত করে রাষ্ট্রের ক্ষতি করছেন। অবশ্য তিনি বিভিন্ন সময় সম্পদ পুনরুদ্ধার না হওয়ার দায় ঠেলে দিয়েছেন পুলিশ প্রশাসনের দিকে। তার অভিযোগ, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করার জন্য তিনি সিদ্ধান্ত নিলেও পুলিশ না পাওয়ায় অভিযান চালাতে পারেননি।
চিড়িয়াখানার প্রধান কর্মকর্তা হচ্ছেন কিউরেটর। ঢাকা চিড়িয়াখানার বর্তমান কিউরেটর এসএম নজরুল ইসলাম নিজেও দুর্নীতিতে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। অবশ্য, এখানে অনেক অনিয়ম আর দুর্নীতি হয়ে থাকে, আর দুর্নীতিবাজরা পারও পেয়ে যায়। অতীতে এমনটিই হয়েছে, এখনো তাই। এর অন্যতম কারণ অসীম কুমার দাস। চাকরিতে জুনিয়র হলেও এই কর্মকর্তা বরাবর অত্যন্ত প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত। চিড়িয়াখানা থেকে নানা অবৈধ উপায়ে কোটি কোটি টাকা আয় করেন, আর এই অর্থে মন্ত্রণালয়সহ ঊর্ধ্বতন মহল সবসময় ম্যানেজ করে রাখেন। ফলে চিড়িয়াখানা এমনকি অধিদফতরের কর্মকর্তারাও তাকে ভয়ের চোখে দেখেন।
জানা গেছে, বর্তমান পদায়ন অনুযায়ী ঢাকা চিড়িয়াখানার তিনি কেউ নন, অথচ দেখা যায় চিড়িয়াখানার প্রত্যেকটি কর্মকা-ে তার হস্তক্ষেপ রয়েছে। সর্বশেষ, জাতীয় চিড়িয়াখানার বর্তমানে যে আধুনিকীকরণ কাজ চলছে তাতেও দুর্নীতি-অপকর্মের মূল হোতা এই অসীম কুমার দাস। অসীম কুমারই প্রভাব খাটিয়ে টেন্ডারগুলো নিজের সিন্ডিকেটের সদস্যদের পাইয়ে দিয়েছেন। যথাযথভাবে কাজ না হওয়া সত্ত্বেও বিল পাইয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। চিড়িয়াখানায় যথন যিনি কিউরেটর পদে আসেন তাকে অসীম কুমার হাতের মুঠোয় নিয়ে নেন। বর্তমান কিউরেটর এমএম নজরুল ইসলামও তেমন ভূমিকায়ই আছেন। অবশ্য, মন্ত্রণালয়ের সচিব রইছউল আলম ম-লের সঙ্গেও রয়েছে অসীম কুমারের দহরম-মহরম সম্পর্ক। সচিবকে দিয়েই তিনি চিড়িয়াখানা আধুনিকীকরণ প্রস্তুতি প্রকল্পের পরামর্শক পদে নিয়োগ দিয়েছেন এমন এক ব্যক্তিকে, যিনি ৮ দুর্নীতি মামলার আসামি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যদিও অসীম কুমার অফিসিয়ালি চিড়িয়াখানার কোনো পদে নেই, তারপরও তিনি এই প্রতিষ্ঠানটির দুটো দায়িত্ব অবৈধভাবে নিজের হাতে রেখেছেন। চিড়িয়াখানার এস্টেট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি ‘লিগ্যাল অফিসার’ হিসেবে মামলা পরিচালনার যাবতীয় ব্যয় তিনি নিজ হাতে ব্যয় করেন। সব ধরণের বিল-ভাউচার তিনিই তৈরি করেন, তিনিই অনুমোদন করেন। চিড়িয়াখানার মামলা মোকদ্দমাসহ আইনি বিষয়গুলো দেখভালের জন্য একজন আইন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হলেও পরে সে নিয়োগ বাতিল হয়ে যায়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অসীম কুমার নিজের ক্ষমতা খর্ব হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এতদিনের অবৈধ খরচের প্রকৃত তথ্য বের হয়ে যাওয়ার ভয়ে উচ্চমহলে তদবির করে ওই নিয়োগ বন্ধ করাতে সক্ষম হন। এছাড়া তিনি মামলা করার নামে যেসব নাটক করেছেন তার গোমরও ফাঁস হয়ে যাবে যদি প্রকৃত কোন আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়।
অসীম কুমার দাসের অবৈধ কার্যকলাপ আর দুর্নীতি নিয়ে মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়, এ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি  ও দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ করা হলেও তার টিকিটিও ছোঁয়া যায়নি। জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়েও এগোয়নি। মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং এ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিতে তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ, এমনকি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও কোন অজানা কারণে সব থমকে যায়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হলেও ঘুরে ফিরে রাজধানী ঢাকাতেই পোস্টিং নিয়ে আছেন একটানা ১৩ বছর ধরে। সংসদীয় কমিটিতে তার দুর্নীতি-অপকর্ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়, তাকে ঢাকার বাইরে বদলির ব্যাপারে কমিটি সুপারিশও করেছিল কিন্তু তা সুপারিশেই রয়ে গেছে। মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতনদের ম্যানেজ করে ঢাকাতেই থেকে যান অসীম দাস। 
অসীম কুমার পিএইচডি করার জন্য ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ে প্রেষণে বদলির জন্য আবেদন করেছিলেন তার সে আবেদন মঞ্জুর হলেও তিনি সেখানে যাননি। কোর্স শুরুর ছয় মাস পর তিনি যোগ দেন কিন্তু তিন বছরের কোর্স ২ বছরেই শেষ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার পিএচডি কোর্স সম্পন্ন হওয়া নিয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের অনেকেই সন্দিহান।
অভিযোগ রয়েছে চিড়িয়াখানায় পশুর জন্য খাদ্য কেনা থেকে বিপুল পরিমাণ ঘুষ নিয়ে থাকেন তিনি। তার দুর্নীতির কারণেই অনেক সময় খাদ্য সরবরাহকারীরা মানসম্পন্ন খাবার সরবরাহ করে না, আবার পরিমাণেও দিয়ে থাকে অনেক কম, এতে অনেক সময় অর্ধাহারে এমনকি অনেক সময় অভূক্ত থাকতে হয় নির্বোধ প্রাণীগুলোকে। যদিও এগুলো তার কাজের অংশ নয়, কিন্তু তিনি সব কিছুতেই প্রভাব খাটান অবৈধ অর্থ আয়ের জন্য।
শুধু তাই নয় চিড়িয়াখানার ভেতরকার ক্যান্টিন পরিচালনার কাজ পেতেও তাকে দিতে হয় মোটা অংকের অর্থ। চিড়িয়াখানার ভেতরে ক্যান্টিনের খাবারের দাম নিয়ে সব সময়ই নানা অভিযোগ করে থাকেন দর্শনার্থীরা। প্রায় সব ধরণের পণ্যের দামই দ্বিগুণ বা তারও বেশি। দায়ে না পড়লে ওই ক্যান্টিনে সহসা কেউ ঢোকে না, আবার কেউ ঢুকলেও গলাকাটা দামের কারণে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে, অনেক সময় তা নিয়ে অপ্রীতিকর অবস্থাও তৈরি হয়। তবে ক্যান্টিন পরিচালনার সাথে জড়িতদের অভিযোগ, এখানে ক্যান্টিনের ইজারা পেতে তাদের এককালীন যে অর্থ খরচ করতে হয় তা দিয়ে বাইরে মোটামুটি মানের দোকানও প্রতিষ্ঠা করা যায়। তারপরও তারা এখানে ব্যবসা করেন মূলতঃ বাকি বেচাকেনা না থাকার কারণে, তবে আসল কথা হচ্ছে এখানে লাভের গুড় পিপড়ায় খায়।
এছাড়া চিড়িয়াখানার প্রবেশদ্বার, পশু-পাখির খাচা ও নিরাপত্তা বেস্টনি তৈরির নামে টাকা বরাদ্দ এনে তার পুরোটাই লোপাট করে দেন অসীম ও তার সহযোগীরা। ঢাকা চিড়িয়াখানার যাবতীয় উন্নয়ন কর্মকা- ও সরবরাহের কাজ সব সময়ই হয়ে থাকে একটি সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। নামকাওয়াস্তে দরপত্র ডাকা হলেও সেই সিন্ডিকেটই যাতে কাজ পায় তা অনেকটা নিশ্চিত করে দেন এই অসীম কুমার। বিভিন্ন সময়ে চিড়িয়াখানার নানা কাজের দরপত্রে অংশ নেয়া একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, অসীম কুমার যতদিন চিড়িয়াখানায় আছে ততদিন এখানে তার সিন্ডিকেটের বাইরে কেউ কোন কাজ পাবে না। অসীম কুমারও তার নিকটজন ও আস্থাভাজনদের কাছে বড়াই করে বলেন, তাকে চিড়িয়াখানা থেকে সরানোর কোন চেষ্টাই বাকি নেই, তিনি সবকিছু ম্যানেজ করে এ পর্যন্ত যেহেতু টিকে গেছেন তাই ভবিষ্যতেও তার আর সমস্যা হবে না। চিড়িয়াখানায় অসীম কুমার দাসের থাকাটা নিশ্চিত ধরে নিয়েই তাকে ব্যবহার করে কিংবা খুশি করে যে চক্রটি চিড়িয়াখানার সব কাজ কর্ম নিজেদের হাতের মধ্যে রেখেছেন তারাও এখন অনেকটা নিশ্চিত। জানা গেছে, মিরপুর এলাকার একজন সংসদ সদস্য অসীম কুমার দাসের দুর্নীতি আর তার ক্ষমতা নিয়ে নিকটজনদের কাছে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। অসীমের অপকর্ম, লুটপাট আর স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে ওই সংসদ সদস্যের কাছে নালিশ করতে গেলে তিনি অসীমের ব্যাপারে তার কিছু করার নেই বলে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন। 
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের এই কর্মকর্তা চিড়িয়াখানাকে ব্যবহার করে নিজের আখের গুছিয়ে ফেলেছেন। জানা গেছে, তিনি ঢাকায়, গ্রামের বাড়িতে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন, তিনি প্রচুর অর্থ বিদেশেও পাচার করেছেন বলে জানিয়েছে চিড়িয়াখানার একাধিক সূত্র। তার দুর্নীতি আর লুটপাটের বিস্তারিত তুলে দুদকে অভিযোগ জমা দিয়েছেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ। কিন্তু রহস্যজনক কারণে দুদকও তার ব্যাপারে নীরব। 
চিড়িয়াখানার একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, সরকারি কোন কোন অফিসের দুর্নীতির ব্যাপারে বলা হয়, ওই অফিসের ইট কাঠও ঘুষ খায়। চিড়িয়াখানার ব্যাপারে বলা যায়, এখানকার শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রায় সবাই এতটাই দুর্নীতিবাজ যে তারা চিড়িয়াখানার পশু পাখি, লোহা-লক্কর সবকিছুর উপরই ঘুষ খান। অসীম দাসের ক্ষমতার উৎস কি তা জানেন না চিড়িয়াখানায় কর্মরতরা, তবে তার দাপট আর নানা অভিযোগের পরও বহাল তবিয়তে টিকে যাওয়ায় অনেকেই এটা বোঝেন, তার ক্ষমতার শিকড় অনেক গভীরে। চিড়িয়াখানার সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তারা মনে করেন, অসীম কুমার দাসকে উপড়ে ফেলতে হলে তার শেঁকড়শুদ্ধ উপড়ে ফেলতে হবে। আজ হোক কাল হোক তা হবেও এমন বিশ্বাস তাদের।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ প্রকাশিত)