সোমবার, ১৮-নভেম্বর ২০১৯, ১১:২৯ অপরাহ্ন

ক্যাসিনোর গডফাদারদের বিরুদ্ধে অভিযান

shershanews24.com

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর, ২০১৯ ০৬:২২ অপরাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: সারাদেশে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনাকারী গডফাদারদের বিরুদ্ধে তালিকা ধরে অভিযান করছে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী। গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে র‌্যাব এ অভিযান শুরু করে। রাজধানীতে বড় ধরণের অন্তত একশো ক্যাসিনো বা জুয়ার আসর রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৬০টির বেশি রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ন্ত্রণে। ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর উত্তর-দক্ষিণ যুবলীগের একশ্রেণির নেতা এ ব্যবসায় জড়িত রয়েছে। রাজধানীর বহুতল ভবনের ছাদগুলোতে গড়ে তোলা হয়েছে ক্যাসিনো। রাত হলেই জমে ওঠে ক্যাসিনোগুলো। দেশের বিভিন্ন এলাকার ধনাঢ্য জুয়াড়িরা ভিড় করেন সেখানে। জুয়াড়িদের পাশে বসে সঙ্গ দেন সুন্দরী তরুণীরা। তাদের অনেকে মডেল, অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত। অ্যালকোহল পান করে বুঁদ হয়ে থাকেন নেশায়। স্বল্পবসনা এসব তরুণীরদের সেবা, খাবার, মদ সবকিছু মিলিয়ে ঢাকার বুকে এক ভিন্ন জগৎ রচনা করেছেন ক্যাসিনো মালিকরা।
যেভাবে অভিযানের সূচনা
গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরে ৫৯ নম্বর সড়কের বাসা থেকে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে আটক করে র‌্যাব। তার গ্রেফতারের মধ্য দিয়েই শুরু হয় এ অভিযান। তার বাসা থেকে নগদ ১০ লাখ ৩৪ হাজার টাকাসহ বিদেশি ছয় হাজার ডলার এবং একটি শোকেসে নীল রঙের প্যাকেটে ৪০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়, উদ্ধার করা হয় তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র। রাজধানীর মতিঝিল, ফকিরাপুল এলাকায় কমপক্ষে ১৭টি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করতেন এই যুবলীগ নেতা। এর মধ্যে ১৬টি ক্লাব নিজের লোকজন দিয়ে আর ফকিরাপুল ইয়াং ম্যানস নামের ক্লাবটি সরাসরি তিনি পরিচালনা করেন। প্রতিটি ক্লাব থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে এক লাখ টাকা নিতেন। এসব ক্লাবে রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত ক্যাসিনোতে জুয়া চলতো। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর এই ক্লাবের কমিটিতে যুবলীগের কয়েকজন নেতা অন্তর্ভুক্ত হন। তাদের প্রভাব বাড়তেই থাকে। ক্লাবটিতে নিয়মিত মদ্যপানের আসর বসানোর পাশাপাশি হাউজি খেলা চালু করেন তারা। এরপর এখানে অবৈধ ক্যাসিনো ও জুয়ার ব্যবসা শুরু হয়। 
অভিযোগ রয়েছে, খিলগাঁও-শাহজাহানপুর হয়ে চলাচলকারী লেগুনা ও গণপরিবহন থেকে নিয়মিত টাকা দিতে হতো খালেদকে। প্রতি কোরবানির ঈদে শাহজাহানপুর কলোনি মাঠ, মেরাদিয়া ও কমলাপুর পশুর হাট নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। খিলগাঁও রেল ক্রসিংয়ে প্রতিদিন রাতে মাছের একটি হাট বসান এই নেতা। সেখান থেকে মাসে কমপক্ষে এক কোটি টাকা আদায় করেন। একইভাবে খিলগাঁও কাঁচাবাজারের সভাপতির পদটিও দীর্ঘদিন তিনি ধরে রেখেছিলেন। শাহজাহানপুরে রেলওয়ের জমি দখল করে দোকান ও ক্লাব নির্মাণ করেছেন। মতিঝিল, শাহজাহানপুর, রামপুরা, সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা এলাকার পুরো নিয়ন্ত্রণ যুবলীগ নেতা খালেদের হাতে। এসব এলাকায় থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠান রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, রেলভবন, ক্রীড়া পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, যুব ভবন, কৃষি ভবন, ওয়াসার ফকিরাপুল জোনসহ বেশিরভাগ সংস্থার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। ‘ভূঁইয়া অ্যান্ড ভূঁইয়া’ নামের প্রতিষ্ঠানটি দিয়ে তিনি তার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এই প্রতিষ্ঠানের নামেই অধিকাংশ টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করা হতো। সরকারি জমি দখলের মতো নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে, রয়েছে একাধিক মামলাও। কয়েক বছর আগে অর্šÍদ্বন্দ্বে যুবলীগ নেতা মিল্কি ও তারেক হত্যার পর পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেন খালেদ। ২০১২ সালের পর মহানগর যুবলীগের অন্য এক প্রভাবশালী নেতার ছত্রচ্ছায়ায় ঢাকার এক অংশের নিয়ন্ত্রণ আসে খালেদের হাতে। 
যেভাবে খালেদের উত্থান 
যুবলীগ নেতা খালেদের বাড়ি কুমিল্লায়। তিনি শান্তিনগরের হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে পড়াশোনা করেছেন। ঐ সময় কলেজে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে পুলিশের সঙ্গে তার সংঘর্ষ বাধে। পুলিশের গুলিতে তার একটি পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই থেকেই তাকে ল্যাংড়া খালেদ নামে অনেকে চেনে। ২০০২ সালে বিএনপির নেতা মির্জা আব্বাসের ভাই মির্জা খোকনের সহযোগী ছিলেন খালেদ। ২০১১ সালে মোহাম্মদপুরে ঢাকা মহানগর উত্তরে সহসভাপতি গিয়াস উদ্দিন বাবু ওরফে লীগ বাবু খুন হন। ওই খুনের সঙ্গে খালেদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। দুবাইয়ে আত্মগোপন করা শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। দুবাই ও সিঙ্গাপুরে জিসানের সঙ্গে যুবলীগ দক্ষিণের একজন শীর্ষ নেতাসহ খালেদকে চলাফেরা করতেও দেখেছে অনেকে। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিঙ্গাপুরে হোটেল মেরিনা বে’তে জিসান, খালেদ ও যুবলীগের ওই শীর্ষ নেতার মধ্যে ক্যাসিনো এবং ঢাকার বিভিন্ন চাঁদার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে জিসান তাদের কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়েই খালেদ ও যুবলীগের ওই শীর্ষ নেতার মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে যুবলীগের ওই শীর্ষ নেতাকে সরিয়ে দিতে একে-২২ রাইফেলসহ ভারী আগ্নেয়াস্ত্রও আনেন খালেদ। 
খালেদের গোপন টর্চার সেলে মিলল ইলেকট্রিক শক মেশিন 
খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়ার একটি টর্চার সেলেও রয়েছে। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ টর্চার সেলের কথা স্বীকার করেছেন। অভিযানের সময় টর্চার সেল থেকে ২টি ইলেকট্রিক শক দেয়ার অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, গায়ের চামড়া জ্বলে-জ্বালাপোড়া করে এমন বৈদ–্যতিক যন্ত্রপাতি, বিপুল পরিমাণ লাঠিসোটা, হকিস্টিক, ১৯০ পিস ইয়াবা, ৫ ক্যান বিয়ার, ৭শ’ গ্রাম সীসা, দেড় কেজি সীসা খাওয়ার কয়লা, তিনটি মোবাইল, ২টি ল্যাপটপ ও ৫টি লাঠি, ২টি অস্ত্রের তেলের বোতল ও নগদ ২৩ হাজার ৫০০ টাকা। জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ জানায়, কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে বা কারও সঙ্গে তার শত্রুতা তৈরি হয়েছে- এমন ব্যক্তিদের টর্চার সেলে নিয়ে চালানো হতো অমানুষিক নির্যাতন। 
ফকিরাপুলের ইয়াংমেনস, ওয়ান্ডারার্স, বনানীর গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ ক্লাবে অভিযান
গত ১৮ সেপ্টেম্বর খালেদকে গ্রেফতারের আগে ফকিরাপুলের ইয়াংমেন ক্লাবে নিষিদ্ধ ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র‌্যাব। সেখান থেকে দুই নারীসহ ১৪২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ক্যাসিনোতে মদ আর জুয়ার বিপুল সরঞ্জামের পাশাপাশি প্রায় ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এদিন মতিঝিলের ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব এবং বনানী এলাকার একটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালানো হয়। ওয়ান্ডারার্স ক্লাব থেকে মাদক, জাল টাকা, বিপুল পরিমাণ টাকা ও ক্যাসিনো সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। বনানীর আহমেদ টাওয়ারে অবস্থিত গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ নামে ক্যাসিনোতে অভিযান চালিয়ে সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের নেতৃত্বে আছেন যুবলীগ নেতা মমিনুল হক সাঈদ এবং মোল্লা আবু কাউসার। এদিকে সেই রাতেই গুলিস্তানে পীর ইয়েমেনী মার্কেটসংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রে অভিযান চালায় র‌্যাব। 
যুবলীগের সমবায় সম্পাদক জিকে শামীম আটক
২০ সেপ্টেম্বর নিকেতনের কার্যালয় থেকে আটক করা হয় যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জিকে শামীমকে। গণপূর্তে এই শামীমই ছিলেন ঠিকাদার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি। অভিযানে শামীমের কার্যালয় থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর জব্দ করা হয়েছে। জি কে শামীমের ৩০০ কোটি টাকার ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১ কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার টাকাসহ ৯ হাজার মার্কিন ডলার এবং সিঙ্গাপুরি ডলার সেখানে পাওয়া গেছে।
অস্ত্রধারী দেহরক্ষী পরিবেষ্টিত হয়ে তিনি চলাফেরা করতেন। গাড়িবহর থাকতো সবসময়। তার গাড়ির আগে-পরে থাকতেন একাধিক গাড়ি। তিনি নিজেই অনেকটা ভিআইপি মর্যাদার পরিস্থিতি তৈরি করেন। রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে শুরু করে সামাজিক অনুষ্ঠান যেখানেই তিনি যেতেন সঙ্গে থাকে দেহরক্ষী। তার ক্ষমতা ও অর্থের দাপটের কারণে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চান না। ওই দিনই ৭ দেহরক্ষীকে হেফাজতে নেয় র‌্যাব। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির তিনটি মামলায় ঠিকাদার জি কে শামীমকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়, রিমান্ডে নেয়া হয়েছে তার দেহরক্ষীদেরও। 
ঘুষ হিসেবে দিতেন বস্তায় বস্তায় টাকা 
জি কে শামীমের ‘মধুভা-ারের’ সুবিধাভোগী ছিলেন অনেকেই। বিশেষ জাদুবলে পূর্তের প্রায় সব কাজই তার কব্জায়। তাই ঘুষ কমিশনও দেন দু’হাত ভরে। সাবেক এক মন্ত্রীকে ঘুষ দিতেন রীতিমতো বস্তাভরে। গাড়িতে নিজেই পৌঁছে দিতেন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। সরকারি বড় বড় প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নিতে শামীম ও সাঙ্গপাঙ্গরা সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের কোটি কোটি টাকা ঘুষ দিতেন। এর মধ্যে দু’জন সাবেক প্রকৌশলীকেই তিনি ঘুষ দিয়েছেন কয়েকশ’ কোটি টাকা। কাজ পেতে তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের সদ্য সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামকে ঘুষ  দিয়েছেন। গণপূর্তের ঢাকা জোনের আরেক সদ্য সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুল হাইকেও ঘুষ দিয়েছেন। 
জিজ্ঞাসাবাদে শামীম দাবি করেছেন, দুই প্রকৌশলী ছাড়াও যুবলীগের অন্তত দু’জন শীর্ষ নেতাকে মোটা অঙ্কের মাসোহারা দিতেন। অবশ্য কাজ পেতে ওই নেতাদের নাম ভাঙাতে হতো তার। তাদের নাম ভাঙিয়ে সরকারি প্রকল্পের হাজার হাজার কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিতেন। এ ছাড়া আরও কয়েকজন বড় সরকারি কর্মকর্তাও শামীমের কমিশনভোগী ছিলেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, শামীম নিজেই কমিশনের অর্থ বণ্টন করতেন। অধিকাংশ সময় কমিশন হিসেবে নগদ টাকা দিতেন। মাঝে মধ্যে শামীমের দু’জন বিশ্বস্ত সহযোগীর মাধ্যমেও কমিশনের টাকা পৌঁছে দেওয়া হতো। বর্তমানে বিভিন্ন প্রকল্পে তার তিন হাজার কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের অধীনে আবাসিক ভবন নির্মাণে অনিয়মের ঘটনায় শামীমের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কালো তালিকাভুক্ত হয়। আরো ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে ‘সন্তুষ্ট’ রাখতে নিয়মিতই মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হতো তাকে। শামীমের বক্তব্য, এমন ঠিকাদারি ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তার আয় করা অর্থের বড় অংশই দিতে হতো নানা রথী-মহারথীকে। ঠিকাদারি কাজ বাগাতে অনেক সময় একাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করতেন শামীম। এছাড়া সমাজের অনেক প্রভাবশালীর সঙ্গে শামীমের ছবি রয়েছে। নিজের ক্ষমতা দেখাতে এসব ছবিও ব্যবহার করতেন তিনি। সূত্র জানায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর অভিযানের একপর্যায়ে র‌্যাব কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা চালান শামীম। তিনি অভিযান-সংশ্নিষ্টদের বিপুল অর্থ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা করেন। এ প্রসঙ্গে একজন কর্মকর্তা জানান, শামীম বরাবর টাকা দিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে এসেছেন। ফলে তিনি একই কায়দায় র‌্যাবকেও ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছেন। 
জি কে শামীমকে কাজ পাইয়ে দেয়া গণপূর্তের গডফাদার মানিক বাবলু হাওয়া
গণপূর্তের গডফাদার নামে খ্যাত মানিক বাবলু। মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বড় বড় ঠিকাদারী কাজ কে কে পাবে তা নির্ধারণ করতেন মানিক বাবলু। জি কে শামীম জানান, সরকারি কাজ পাইয়ে দিতে সাহায্য করতেন গণপূর্তের গডফাদার মানিক বাবলু। গোটা মন্ত্রণালয়, রাজউক, গণপূর্ত বিভাগ, গৃহায়ন অধিদপ্তর সবকিছুই ছিলো তার নিয়ন্ত্রণে। বাড়ি চট্টগ্রামে হবার সুবাদে সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের খুব ঘনিষ্ঠজন ছিলেন তিনি। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলে মন্ত্রণালয়ের বড় বড় কাজগুলো বিশাল অংকের কমিশনের ভিত্তিতে পছন্দের ব্যক্তিদের পাইয়ে দিতেন তিনি। রাজউকের পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পের মাটি ভরাটের কাজ সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করতেন। সেখানে থেকে তিনি হাজার কোটি টাকা লুটে নেন। জি কে শামীমের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে চট্টগ্রামে ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজসহ বড় বড় বেশ কয়েকটি কাজ করছেন এই বাবলু। চট্টগ্রাম সিনিয়রস ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন এই মানিক বাবলু। সেই সুবাদে অনেক রাঘব-বোয়ালের সাথে তার ছিলো ওঠাবসা। তবে এই গডফাদার এখনও প্রশাসনের ধরা ছোঁয়ার বাইরে আছেন। চট্টগ্রামে গোল পাহাড় মোড়ে চায়না গ্রিল নামে তার বিশাল একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্ট রয়েছে। থাইল্যান্ডে তার রয়েছে ৪/৫টি রেস্টুরেন্ট ব্যবসা। অধিকাংশ সময় থাকেন থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দুবাই এবং নিউইয়র্কে। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রেও তার বেশকিছু ব্যবসা রয়েছে।
বস্তা বস্তা টাকা, কেজি কেজি সোনা
গত ২৪ সেপ্টেম্বর র‌্যাবের অভিযানে ঢাকার গে-ারিয়া থানা আওয়ামী লীগের নেতা দুই ভাই এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়ার বাসায় মোট তিন জায়গা থেকে নগদ পাঁচ কোটি টাকা, ৭২০ ভরি বা ৮ কেজি স্বর্ণালঙ্কার ও ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়। এনামুল হক এনু গে-ারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং রুপন একই ইউনিটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। দুই ভাই পুরান ঢাকার সূত্রাপুরের বানিয়ানগর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা। তারা অন্তত ১৫টি বাড়ির মালিক। নিজেদের, বন্ধু এবং কর্মচারীর বাসায় রীতিমতো ব্যাংকের মতো ভল্ট বানিয়ে তাতে রাখেন কোটি কোটি টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কার। টাকা রাখতে বেশি জায়গা লাগে, তাই স্বর্ণ কিনে রাখতো তারা। এসব সম্পদ রক্ষায় তাদের রয়েছে অবৈধ অস্ত্রধারী ক্যাডারও। র‌্যাব বলছে, মতিঝিলে ক্যাসিনো চালিয়ে এই দুই ভাই বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন। অভিযানে তিনটি রিভলবারসহ ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েকদিন আগে এনামুল থাইল্যান্ডে পালিয়ে গেছেন। রুপন ভূঁইয়াকেও গ্রেফতার করা যায়নি।
ধানমন্ডি ক্লাবে অভিযান
রাজধানীর ফকিরাপুল ইয়াংমেন্স ক্লাব ও ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে অভিযানের পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্র এবং ধানমন্ডি ক্লাবে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে ধানম-ি ক্লাবে অভিযান শেষে র‌্যাব-২ এর এসপি মো. শাহাবুদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, ধানমন্ডি ক্লাবটি বন্ধ থাকায় দুই একজন স্টাফ ছাড়া কেউ ছিল না। পরে ওই ক্লাবে ২৪ ঘণ্টার জন্য সিলগালা করে র‌্যার। জানা গেছে, ধানমন্ডি ক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল। তিনি দুদকের আইনজীবী। 
কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের ক্লাবে অভিযান, সভাপতি আটক
গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্র ক্লাবে ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, ইয়াবা ও জুয়ার সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে র‌্যাব। এ ঘটনায় ওই ক্লাবের সভাপতি ও কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় নেতা শফিকুল আলম ফিরোজকে আটক করা হয়। কলাবাগান ক্রীড়াচক্র ক্লাব ভবন থেকে লাইসেন্সবিহীন বিদেশি পিস্তল, ইয়াবা, জুয়া খেলার সরঞ্জাম কয়েন এবং ৫শ’ ৭২টি প্লেয়িং কার্ড সেট উদ্ধার করে র‌্যাব। এসব সরঞ্জাম ক্লাবটির সভাপতি শফিকুল আলমের অফিস কক্ষ থেকে পাওয়া যায়। পরে অস্ত্র ও মাদক আইনের দুই মামলায় শফিকুল আলম ফিরোজের ৫ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ড দেয়া হয়।
গুলশানের নাভানা টাওয়ারে স্পা’তে পুলিশের অভিযান
রাজধানীর গুলশানের নাভানা টাওয়ারে স্পা অ্যান্ড হেলথ ক্লাবে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়েছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর রোববার রাত ৯টার দিকে গুলশানের নাভানা টাওয়ারের ১৮, ১৯ ও ২০ তলায় অবস্থিত তিনটি স্পা সেন্টারে অভিযান চালায় গুলশান থানা পুলিশ। পুলিশের গুলশান জোনের ডিসি সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, স্পার নামে অশ্লীলতা, অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ পেয়েছি। তার প্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করে গুলশান থানা পুলিশ।
মতিঝিলে ৪ ক্লাবে অভিযান
নিষিদ্ধ জুয়া-ক্যাসিনো বন্ধে মোহামেডান স্পোর্টিংসহ মতিঝিলের চারটি ক্লাবে একসঙ্গে অভিযান চালায় পুলিশ। ক্লাবগুলোতে বিপুল পরিমাণ আধুনিক ক্যাসিনো সামগ্রী, সøট মেশিন ও নগদ টাকা পাওয়া গেছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদের বোতল, সিসা খাওয়ার সামগ্রী এবং ওয়্যারলেস সেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া টাকা গোনার মেশিন ও জুয়া খেলার সরঞ্জামও জব্দ করা হয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চলে। মোহামেডান স্পোর্টিং, আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ, দিলকুশা স্পোর্টিং এবং ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবে অভিযান চালানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, স্পোর্টিং ক্লাবের নাম করে এসব স্থানে চলছিল ক্যাসিনো। এগুলোতে ভিআইপিদের জন্য আলাদা ছোট ছোট রুম আছে। টাকা গোনা এবং রাখার জন্যও আছে আলাদা রুম। দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাবে দেখা গেছে, জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে ক্যাসিনো খেলা চলত। ১০-১২টি টেবিল বসানো আছে। বোর্ডে ক্যাসিনো খেলার লিখিত নিয়ম-কানুন সাঁটানো ছিল। ক্লাবটির সব কটি রুমই দামি আসবাব দিয়ে সাজানো। সেখানে আছে ওপেন বার। জুয়া খেলার সময় মদ পান করা হতো বলে পুলিশ জানিয়েছে। ক্লাবের প্রতিটি রুমেই রয়েছে ক্যাসিনোর আয়োজন। স্পোর্টিং ক্লাব হলেও সেখানে ফুটবল, ক্রিকেট বা অন্যান্য খেলার কোনো সরঞ্জামাদি চোখে পড়েনি।  ভিক্টোরিয়া ক্লাবের দেওয়ালে এমন অসংখ্য ছবি দিয়ে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ভেতরে ঢুকলেই এগুলো দেখে মনে হবে- জুয়ার স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করেছেন কেউ। ভিক্টোরিয়া ক্লাবের গেট দিয়ে প্রবেশ করতেই চোখে পড়বে বোর্ডের ওপর সাজানো তাস। এর মধ্যেই আছে মদের বোতল। তার পাশের টেবিলেই রয়েছে ক্যাসিনোর কয়েন। আর ক্লাবের ভেতরের প্রতিটি ওয়ালে ঝুলছে জুয়ার সামগ্রীর সঙ্গে সুন্দরী নারীর ছবি। একেবারে পশ্চিম দিকে রয়েছে ক্যাশ কাউন্টার। বিশেষ বিশেষ মাসে এখানে ক্যাসিনো খেলার জন্য বিশেষ ছাড় দেয়া হয়। সেখানে রয়েছে সিসা পানের জন্য রাজকীয় হুঁকাও। ভিক্টোরিয়া ক্লাব থেকে নয়টি ক্যাসিনো বোর্ড, নগদ ১ লাখ টাকা, বিপুল পরিমাণ তাস, কয়েন এবং মদ উদ্ধার করা হয়েছে। বেশকিছু কাগজপত্রও জব্দ করা হয়েছে। মোহামেডান ক্লাব থেকে ১১টি ওয়্যারলেস সেট, ১০টি বিভিন্ন ধরনের চাকু, কার্ড পাঞ্চ করার ছয়টি মেশিনসহ বিপুল পরিমাণ কার্ড, ৯টি বোর্ড, দুটি ক্যাসিনো বোর্ড জব্দ করা হয়েছে। 
মোহামেডান ক্লাবের ডিরেক্টর লোকমান হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেফতার
বাসায় বিদেশি অবৈধ মদ রাখার অভিযোগে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের ডিরেক্টর ইনচার্জ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর তেজগাঁও মনিপুরীপাড়ার বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-২-এর সদস্যরা। তার বাসা থেকে বিদেশি অবৈধ মদ পাওয়া গেছে। পরের দিন বিকেলে তাকে তেজগাঁও থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। র‌্যাব-২-এর কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, লোকমান ক্যাসিনো থেকে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছেন। এই টাকাগুলো অস্ট্রেলিয়ার দুই ব্যাংক- কমনওয়েলথ ও এএনজেড ব্যাংকে রাখা আছে। অস্ট্রেলিয়ার ওই দুই ব্যাংকে তার ৪১ কোটি টাকা রয়েছে। তার ছেলের অস্ট্রেলিয়া পড়ার সুবাদে তিনি মাঝে মাঝেই অস্ট্রেলিয়ায় যান।
ফু-ওয়াং ক্লাবে পুলিশ না পেলেও বিপুল পরিমাণ মাদক পেল র‌্যাব
পুলিশের অভিযানে কিছু না পাওয়া গেলেও ঠিক তার দুই দিন পর র‌্যাবের অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক পাওয়া গেছে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ফু-ওয়াং ক্লাবে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ফু-ওয়াং ক্লাবে অভিযানের সময় র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, ফু-ওয়াং ক্লাব থেকে ২ হাজারের মতো বিদেশি মদের বোতল ও ১০ হাজার হান্টার ক্যান ও নগদ সাত লাখের বেশি টাকা জব্দ করা হয়েছে। ফু-ওয়াং ক্লাবের সদস্য ছাড়াও বাইরের অনেকেই সেখানে যেতেন এবং মাদক সেবন করতেন বলেও জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। 
ঢাকার বাইরেও অভিযান
চট্টগ্রাম নগরীর কাজির দেউড়ি এলাকায় অবস্থিত ‘হ্যাংআউট’ নামে একটি বারের জুয়ার আসরে ২০ সেপ্টেম্বর অভিযান চালান পুলিশ। এ সময় ২৭ জনকে আটক করা হয়। অভিযানে বেশ কিছু জুয়ার সরঞ্জাম ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন। তিনি জানান, কোতোয়ালী থানাধীন আলমাস সিনেমা হলের পাশে অবস্থিত ‘হ্যাংআউট’ নামে একটি ক্লাবে জুয়ার আসর চলছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে রাতে অভিযান চালানো হয়। আটককৃতদের মধ্যে ২ জন স্কুলছাত্রসহ ৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ক্লাবের মালিক খালেকুজ্জামান এবং তার কর্মচারী রবিউল ইসলামকেও আটক করা হয়। 
২০ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়ায় চাঁদাবাজির মামলায় পৌর যুবলীগের সভাপতি আশরাফুজ্জামান ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গ্রেপ্তারের দুই ঘণ্টা আগে আলামিন জোয়ার্দ্দার নামে এক ব্যবসায়ী চাঁদাবাজির এই মামলা করেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আরিফ বলেন, তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের ফলে গ্রেফতার করা হয়। সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সৈয়দ হায়দার আলি তোতার বাড়ি থেকে ৯ জুয়াড়িসহ জুয়ার সরঞ্জাম আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। বুধবার রাত ৯ টার দিকে শহরের মুনজিতপুরে তোতার বাড়িতে এই অভিযান চালানো হয়। এ সময় বেশ কয়েকজন জুয়াড়ি পালিয়ে যায়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারান চন্দ্র পাল জানান, ৯ জুয়াড়িকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৪৯ হাজার টাকা, কয়েক কার্টুন তাস, গোলাকার  টেবিল এবং খাতাপত্র জব্দ করা হয়েছে। 
এ অভিযানের পর রাজধানীর ক্যাসিনোগুলো বন্ধ রয়েছে। যারা গ্রেফতার হয়েছেন তাদেরকে ছাড়াতে আইনি চেষ্টা শুরু করেছেন তাদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। আইনের ফাঁক গলে অতীতে বহু অপরাধী বেরিয়ে এসেছেন, এবার যারা গ্রেফতার হয়েছেন তাদের আর্থিক ও রাজনৈতিক জোর দুইই আছে, তাই তাদেরকে কতদিন আটকে রাখা যায় সেদিকেই নজর থাকবে মানুষের। এছাড়া রাঘব বোয়ালরা ধরা পড়ছেন কিনা, নাকি এ অভিযান নিছক লোক দেখানো সেদিকেও সবার চোখ রয়েছে।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ প্রকাশিত)