বুধবার, ১১-ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:২২ পূর্বাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ মানছেন না কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ডিজি 

সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ মানছেন না কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ডিজি 

shershanews24.com

প্রকাশ : ০২ আগস্ট, ২০১৯ ০৮:৩৭ অপরাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পরও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর একটি প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের নিয়োগ আত্মীকরণ ও রাজস্বখাতে স্থানান্তর করা হচ্ছে না। জানা গেছে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এর অধিনে ইন্টিগ্রেটেড এগ্রিকালচারাল প্রোডাক্টিভিটি নামের একটি প্রকল্প চালু ছিল। ৫ বছর মেয়াদী ওই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১১ সালের জুলাই মাসে, আর তা শেষ হয় ২০১৬ সালের জুন মাসে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে ওই প্রকল্পে কর্মরত ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পদের  কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী তাদের চাকরি রাজস্বখাতে স্থানান্তরে নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। এর প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট প্রথমে রুল জারি করে। পরে ওই রুল নিষ্পত্তি করে ওইসব রিটের রায়ে আবেদনকারীদের চাকরি নিয়মিতকরণ ও রাজস্বখাতে স্থানান্তরের আদেশ দেন হাইকোর্ট। হাইকোেের্টর রায়ের বিরুদ্ধে ‘বারি’র মহাপরিচালক আপিল করেন। আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে, তবে রায়ে চাকরির ধারাবাহিকতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেয়ার ব্যাপারে হাইকোর্টের যে আদেশ ছিল আপিল বিভাগ সে অংশটুকু বাতিল করে দেন।
আপিল বিভাগের এ রায়ের বিরুদ্ধে বারি’র পক্ষ থেকে সিভিল রিভিউ পিটিশন দায়ের করা হয়। আপিল বিভাগ রায় দিয়েছিল ২০১৮ সালের ২৫ মার্চ, আর এর বিরুদ্ধে আপিল করা হয় নির্দিষ্ট সময়ের ১৪২ দিন পর। দেরিতে রিভিউ পিটিশন দাখিলের ব্যাপারে বারি’র পক্ষ থেকে যেসব কারণ দেখানো হয়েছিল তা আপিল বিভাগের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। ফলে আপিল বিভাগ এ বছরের ১০ জানুয়ারি এক রায়ে ওই রিভিউ পিটিশন খারিজ করে দেন। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, তাদের নিয়োগের ব্যাপারে হাইকোর্টের আদেশ রিভিউর রায়েও বহাল থাকে। দেখা যাচ্ছে, ওই কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ বাধাগ্রস্ত করতে বারি চেষ্টার কোন ত্রুটি করেনি। তারা নিজেরা নিয়োগ তো দেয়ইনি, বরং যাতে নিয়োগ দিতে না হয় সেজন্য সর্বোচ্চ আদালতেরও দ্বারস্থও হয়েছেন। 
এ নিয়োগকে কেন্দ্র করে সকল বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হলে চার জন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাসহ ১৩জন কর্মকর্তা-কর্মচারী বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট-বারি’র মহাপরিচালকের কাছে তাদের যোগদানপত্র দাখিল করেন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর ৬৫তম বোর্ডসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল রিটকারী নয়জন কর্মচারীকে আত্মীকরণ করা হয়। একই বোর্ড সভায় চারজন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার নিয়োগের ব্যাপারে বলা হয়, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও শূণ্যপদ না থাকায় তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে এটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের মতামত নেয়া হবে। 
চারজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা নেই বলে বারি’র বোর্ডসভায় নিয়োগ না দেয়া হলেও বাস্তবতা হচ্ছে ওই চারজন কর্মকর্তা যে পদে চাকরি করতেন সে পদ অর্থাৎ রিসার্চ অফিসারের পদটিকে সংশোধন করে ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা করা হয় ২০১৪ সালের জুন মাসে অর্থাৎ তারা যে প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন সে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ২ বছর তারা পরিবর্তিত বা সংশোধিত পদে চাকুরি করেছেন। সংশোধিত পদে দু’বছর চাকরি করার পর নিয়োগ স্থায়ী করার ক্ষেত্রে যোগ্যতা না থাকার কথা উল্লেখ করার কি উদ্দেশ্যে থাকতে পারে? একমাত্র উদ্দেশ্যে হতে পারে, তাদের নিয়োগ নিয়মিতকরণ না করা। এছাড়া তারা হাইকোর্টে যে রিট করেছেন সেখানে তারা নিজেদের ‘ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অথচ মামলার শুনানিকালে তাদের পদবী নিয়ে কেউই প্রশ্ন তোলেনি, বারির আইনজীবীরাও এ ব্যাপারে কোন আপত্তি করেননি। এই চার কর্মকর্তা যে পদে কর্মরত আছেন সেই পদেই নিয়োগ চান, আদালতের আদেশও সেরকম। কিন্তু বারি কর্তৃপক্ষ ওই চারজন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাকে নি¤œ বেতন গ্রেডের পদে অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেয়া যায় কি না সে ব্যাপারে এটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের মতামত চেয়েছে। এটর্নি জেনারেলের মতামত চাওয়ার বিষয়ে এক্ষেত্রে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তথ্য গোপন করা হয়েছে। এটর্নি জেনারেল বরাবর চিঠিতে বলা হয়েছে, “রিসার্চ অফিসারের সাথে ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদের সাকুল্য বেতন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা বারি’র চাকরি প্রবিধানমালার সাথে সামঞ্জস্য না থাকায় রীটকারীদেরকে তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী নি¤œ বেতন গ্রেডের পদে (বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা) বারির চাকরিতে আত্মীকরণ করা যায় কিনা এ বিষয়ে আইনগত মতামত প্রয়োজন।” কিন্তু এই চার কর্মকর্তা যে ইতিপূর্বে দু’বছর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে কাজ করেছেন সেটি এক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়নি। তাছাড়া এটর্নি জেনারেলের মতামত চাওয়ার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে, ঊর্ধ্বন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদ শুন্য নেই। বস্তুত তার আগেই ২৯ এপ্রিল, ২০১৯ ইং ১৬ জন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাকে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে পদায়ন করা হয়েছে। ফলে  মে ২০১৯ ইং তারিখে যখন এটর্নি জেনারেলকে চিঠি লেখা হয় ওই সময় এ পদগুলো শূন্যই ছিল এবং এখনো শূন্য আছে।
 সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেনে, এই মতামত চাওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে এই চার কর্মকর্তাকে তাদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী যে পদে নিয়োগ দেয়ার কথা সে পদে নিয়োগ না দেয়া কিংবা নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে অহেতুক বিলম্ব করা। অথচ কৃষি মন্ত্রণালয়ের আইন অধিশাখা থেকে ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই লেখা এক পত্রে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে কালক্ষেপণ না করতে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে জানিয়েছিল। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠিতে আদালতের রায় বাস্তবায়নে দেরি করলে আদালত অবমাননার মামলা হতে পারে বলে আশংকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ বারি কর্তৃপক্ষ ওই চারজনের নিয়োগে কালক্ষেপণ করেই যাচ্ছে।
পুরো ঘটনায় দেখা যায়, এই চার কর্মকর্তা ও অন্যান্যদের নিয়োগের ক্ষেত্রে একই মামলার একই ফলকে দু’ভাবে বিশ্লেষণ করে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিয়েছে বারি। এই চার কর্মকর্তা সফলভাবে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করার পরও তাদের নিয়োগ নিয়ে এই গড়িমসি ও কালক্ষেপণ শুধু আইনেরই ব্যত্যয় নয়, মানবাধিকারেরও লঙ্ঘণ বলে মনে করেন ভূক্তভোগী ওই কর্মকর্তারা।
এ ঘটনার বিষয়ে মন্তব্যের জন্য কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ডিজি ড. আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে বেশ ক’বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ গত ৬ জুলাই সকাল পৌনে ১০টায় পাওয়া গেলেও তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে কথা বলেননি। দুপুর ১টার পরে যোগাযোগ করলে কথা বলবেন জানিয়েছিলেন। কিন্তু দুপুর ১টার পর তিনি শীর্ষ কাগজের এ প্রতিবেদকের ফোনই রিসিভ করেননি।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ৮ জুলাই ২০১৯ প্রকাশিত)