বুধবার, ২৭-মে ২০২০, ০৯:৩৯ অপরাহ্ন

দিল্লীতে মুসলিমবিদ্বেষী নারকীয় তাণ্ডবে নিন্দা জানানোর ভাষা নেই 

shershanews24.com

প্রকাশ : ০৩ মার্চ, ২০২০ ০৫:২৩ অপরাহ্ন


এস আরেফিন: ভারতের রাজধানী দিল্লিতে মুসলমানদের ওপর বেছে বেছে যেভাবে নারকীয় তাণ্ডব চালানো হয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। ভারতে গত কয়েক দশকে ঘটে যাওয়া ছোটখাটো বিভিন্ন সংঘাতের চেয়ে এ ঘটনা কয়েক গুণ ভয়ানক ও উদ্বেগজনক। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-সহিংসতায় দিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মুসলিমদের বাড়ি-ঘর, দোকানপাট ও মসজিদে হামলা এবং অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে মুসলিমবিদ্বেষী কট্টরপন্থী হিন্দুরা। 
দিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চল পরিণত হয়েছে ভুতুড়ে নগরীতে। পরিকল্পিত এই দাঙ্গায় আগুন লাগানো, পাথরবাজি, গুলির সঙ্গে চালানো হয়েছে অ্যাসিড হামলাও। প্রাণের ভয়ে দিল্লি ছেড়েছে হাজারো মুসলিম নাগরিক। 
দাঙ্গায় রাজধানী দিল্লিতে এখন পর্যন্ত ৪৩ জন প্রাণ হারিয়েছে। দিল্লির বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে অনেক বেশি।
সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকেন্দ্রিক এ সহিংসতা বাংলাদেশসহ বিশে^র সব দেশের মুসলমানদের পীড়িত, ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন করেছে। জাতিসংঘও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং দিল্লির পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানানো হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র মন্তব্য করেছেন, বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শনের অধিকার রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সংযত আচরণ করা উচিত। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতার যেসব চিত্র ও বর্ণনা প্রচারিত হয়েছে, তাতে আইন প্রয়োগ ও নাগরিকদের জীবন রক্ষায় প্রশাসনিক ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়েছে।
ভারতের সরকারি পুলিশ বাহিনী মুসলমানদের ওপর এই নারকীয় হামলায় মদদ দিয়েছে এবং কোনো কোনো স্থানে তারা নিজের হাতেই আগুন লাগিয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ ব্যাপারে নিন্দা জানানোর ভাষা জানা নেই। এমনিতেই  প্রতিবেশী মিয়ানমারের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে রোহিঙ্গাদের নিয়ে সংকটের মধ্যে আছে বাংলাদেশ। মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা সমস্যারই আজ পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। তার ওপর যদি এনআরসি থেকে বাদ পড়া ভারতীয় নাগরিকরা বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে তাহলে আমাদের আর উপায় থাকবেনা। এ ব্যাপারে আমাদের সরকারের শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। 
ধর্মনিরপেক্ষ থেকে পরিবর্তিত হয়ে ভারত এখন একটি হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। আর বিজেপি তাদের ভোটের রাজনীতির জন্য ধর্মকে ব্যবহার করছে, বাংলাদেশের মত প্রতিবেশী রাষ্ট্রকেও এর সঙ্গে জড়াচ্ছে তারা। তাই এটাকে বাংলাদেশের জন্য খারাপ সময় বলে অভিহিত করেছেন কূটনীতিকরা।
নরেন্দ্র মোদি তার প্রথম প্রতিক্রিয়াতেই শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের আহ্বান জানিয়েছেন, কিন্তু এ আহ্বান কাজে দিলে পরিস্থিতি এতটা খারাপ হতো না। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতে ডানপন্থী হিন্দু জাতীয়তাবাদের পুনরুত্থান দেখা যায়। এমনকি ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পুনর্র্নির্বাচিত হলে এই জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
আমরা ভারতের শান্তি ও স্থিতিশীলতা কামনা করি। দিল্লির সহিংসতার দ্রুত অবসান এবং ভারতের আর কোনো অঞ্চলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেনো না ঘটে। বাংলাদেশ সরকারকেও এ ব্যাপারে সতর্ক এবং কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। রাজনৈতিকভাবে, কূটনৈতিকভাবে এবং সীমান্ত সুরক্ষায়ও বাংলাদেশকে সতর্ক থাকতে হবে।