বুধবার, ১৯-ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন

এভাবে হাওয়ায় তলোয়ার চালাবেন না

shershanews24.com

প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারী, ২০২০ ১০:২৬ অপরাহ্ন

মো. মোতাহার হোসেন: ড. মিজানুর রহমান আযাহারী, পন্ডিত ব্যাক্তি-সুবক্তা এবং যথেষ্ট জনপ্রিয়। সারা দেশব্যাপী ওয়াজ মাহফিল করে বেড়ান। তিনি ব্যাক্তিগত ভাবে আমার পরিচিত কেউ নন, আলাপচারিতাও নেই। তার ওয়াজমাহফিলও আমি তেমন শুনিনা। তবে দু'একটি শুনেছি। কুরআন হাদিসের ব্যাখ্যা দেন, কুরআন হাদিসের আলোকে মানুষকে ইসলামের পথে দাওয়াত দেন।
অতিসম্প্রতি লক্ষ্য করা যায়, কিছু লোক, আলেমওলামা, রাজনৈতিক ব্যাক্তি, এমনকি মন্ত্রী পর্যন্ত আযাহারীর বিরুদ্ধে আদাজল খেয়ে লেগেছে। যাচ্ছেতাই ভাষায় তার সমালোচনা করছে, তার চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করছে। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন তাকে নিয়ে এতো তোলপাড়? 
আযাহারী যদি মহা পবিত্র গ্রন্থ কুর'আন কিংবা হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা দেন, অপব্যাখ্যা দেন অথবা কুর'আন বা হাদিসের সাথে সাংঘর্ষিক কোন কথা বলে থাকেন তাহলে সুনির্দিষ্ট ভাবে তার প্রতিবাদ করা যেতে পারে। আযাহারীও একটা মানুষ, মানুষ হিসেবে তার ভুল অবশ্য ই হতে পারে। যদি ভুল কিছু বলেন বা করেন তা ধরিয়ে দেবার দায়িত্ব এবং অধিকার আলেম সমাজের আছে। অথবা কোন বিতর্কিত রাজনৈতিক বক্তব্য দিলে তার জবাব দানের অধিকারও রাজনীতিকদের আছে; রাষ্ট্র বিরোধী কোন কথা বললে অথবা অপব্যাখ্যা দিলে রাষ্ট্র প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।
কিন্তু কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া ঢালাওভাবে তাকে গালিগালাজ করা, তার বিরুদ্ধে লেগে যাওয়ার কারণ কী? একটি স্বাধীন দেশে, মুক্ত সমাজ ব্যবস্থায়, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশে আযাহারীর মত একজন ইসলামি পন্ডিত ব্যাক্তির বিরুদ্ধে এভাবে লেগে যাওয়ার উদ্দেশ্য কী?
আযাহারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি প্রায়শ ইংরেজি শব্দ বলেন।
এর কারণ দুটি হতে পারে। ১, ইংরেজি বললে গ্রামের মানুষ মনে করে লোকটা কাটমোল্লা নয় ইংরেজি শিক্ষিত, এতে জনমনে আস্থা সৃষ্টি হয়। এ কারণে জনমনে আস্থা বাড়ানোর জন্যে অনেক মৌলভী মওলানা এ টেকনিক ব্যবহার করেন। আস্থা সংকট দূরিকরনে এ টেকনিক ব্যবহার দোষের কিছু না।অনেকেই এ টেকনিক করেন। দ্বিতীয় কারন হতে পারে, আযাহারী দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন, বিদেশে লেখাপড়া করেছেন, এ কারণে অভ্যাস বসতও ইংরেজি শব্দ মুখে আসতে পারে। যেমন আমরা প্রায় সবাই কথা বলার সময় বাংলার সাথে অকারণে ইংরেজি শব্দ জুড়ে দেই। রেগে গেলে বা অনর্গল বলতে গেলে ইংরেজি শব্দ এসে পড়ে। এ- সবে দোষের কিছু দেখিনা। আর ওয়াজ করার সময় শরীরে একটা জোস আসে, জোসের কারনেও ইংরেজি শব্দ আসতে পারে। এসব ধর্তব্যের বিষয় নয়। দেখতে হবে তিনি ধর্মের বিষয়ে কোন ভুলচুক করছেন কি-না। 
যদি তা না করেন, যদি বিতর্কিত রাজনৈতিক বক্তব্য না দিয়ে থাকেন তবে কেন তাকে নিয়ে এতো তোলপাড়? 
তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে? তার জনপ্রিয়তায় কী কারো গা জ্বালা করছে? কাউকে হিংসা করা, কারো প্রতি ঈর্ষান্বিত হওয়া ইসলামে নিষেধ আছে। যারা তাকে হিংসা করছেন তারা কি প্রকৃত ইসলামের পথে আছেন? 
যদি আযাহারী ভুল পথে থাকেন তাহলে ভুলটা ধরিয়ে দিন। আমার বিশ্বাস, নিশ্চয়ই আযাহারী নিজেকে শোধরাবেন। 
আর যদি তিনি সঠিক থাকেন তবে এভাবে হাওয়ায় তলোয়ার চালাবেন না।
আল্লাহ আমাদের সঠিক টা জানা, বুঝা এবং আমল করার তৌফিক দান করুক, আমিন।