শনিবার, ১৮-জানুয়ারী ২০২০, ০৯:২৮ অপরাহ্ন

দ্রব্যমূল্যের এ নৈরাজ্য থেকে মুক্তি চায় মানুষ

shershanews24.com

প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১০:২৩ পূর্বাহ্ন

এস আরেফিন : দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও নৈরাজ্য বর্তমানে একটি ক্রমবর্ধমান অভিশাপ রূপে দেখা দিয়েছে। পেঁয়াজ, চাল, ডাল, তেল, নুন ও শাকসবজিসহ সব পণ্যের দাম মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে। প্রতিদিন যেন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দাম। সাধারণ মানুষকে বাজারে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। নিত্যপণ্যের এমন লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি দেশের সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে।
সরকারের কাছ থেকে সাধারণ মানুষ যে দু’টি বিষয়  সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা করে, তার একটি হলো আইনশৃঙ্খলার নিয়ন্ত্রণ, অন্যটি হচ্ছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ। এ ব্যাপারে সরকার তাদের সাধ্যের মধ্যে সব কিছু করবে, জনগণ এটাই দেখতে চায়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশে নজিরবিহীন পেঁয়াজ সংকট দেখা দিয়েছে। শাসকদলীয় সিন্ডিকেটের কারণে শুধু পেঁয়াজ নয়, এর সঙ্গে সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বেড়ে চলেছে। কোনোরকমেই দ্রব্যমূল্যের এ ঊর্ধ্বগতি রোধ করা যাচ্ছে না। আর দ্রব্যমূল্যের সাথে পাল্লা দিয়ে জীবন চালাতে গিয়ে সৎ ও সচ্ছল মানুষের জীবনে ত্রাহি অবস্থা। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা যেমন সীমিত থাকে, তেমনি জিনিসপত্রের বাজারদর দ্বারাও তা নিয়ন্ত্রিত হয়। বিত্তবানদের জন্য দ্রব্যমূল্য প্রত্যক্ষভাবে কখনোই তেমন সমস্যা নয়। কারণ তাদের আয় প্রায় সীমাহীন। কিন্তু সাধারণ মানুষ যে আয় করে তা দিয়ে তাকে হিসাব করে চলতে হয়। মানুষের আয় যতটা বাড়ে সেই তুলনায় যদি জিনিসপত্রের দাম বেশি বৃদ্ধি পায় তাহলেই তার ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। এই ক্রয়ক্ষমতাই হলো তার ‘প্রকৃত আয়’। ‘প্রকৃত আয়’ বৃদ্ধি না পেয়ে যদি একই জায়গায় স্থির থাকে তাহলেই শুরু হয় আশাভঙ্গের নিদারুণ যন্ত্রণা। আর ‘প্রকৃত আয়’ কমে গেলে যে যন্ত্রণা- তার মাত্রার কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। গণমানুষের আয়ের পরিমাণ ও বাজারদর- এ দুইয়ের মধ্যে যথাযথ সামঞ্জস্য বিধান করাটাই হলো, দ্রব্যমূল্য সমস্যা সমাধানের আসল উপায়। যখন যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকেন তাদেরও প্রধান কাজ এটিই। কিন্তু অনেক সময় সরকারের সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারে না। আর তখনই জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। সেটিকেই সরকারের বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হয়ে থাকে। এক পর্যায়ে এই ব্যর্থতা সরকারের জনপ্রিয়তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। পরবর্তীতে সরকারকে এর খেসারতও দিতে হয়।   
সাধারণত চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা, কৃত্রিম অভাব সৃষ্টিকারী, মজুদদারি, ফটকাবাজি, মুদ্রাস্ফীতি ও কালোবাজারি ইত্যাদি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তাই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা বজায় রাখতে তথা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ বিষয়গুলোর ওপর সরকারকে সমসময় সচেতন থাকতে হবে। দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকারকে অসাধু ব্যবসায়ী, মজুদদার ও কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি দেশে কোনো দ্রব্যের উৎপাদন সংকট দেখা দিলে তা বিদেশ থেকে এনে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে আগে থেকেই। তাহলেই মানুষ মূল্যবৃদ্ধির অভিশাপ ও দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে।