শুক্রবার, ১৩-ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:১২ পূর্বাহ্ন

সড়ক পরিবহন যেন ‘কাজীর কেতাব’ এ পরিণত না হয়

shershanews24.com

প্রকাশ : ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০২:৫০ অপরাহ্ন

এ রহমান: বহুল আলোচিত ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ কার্যকরের প্রক্রিয়া চলছে। তবে শুরু থেকেই এ আইন নিয়ে একটা বিভ্রান্তি ছিল পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। সারাদেশে ছাত্রদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সংসদে সড়ক পরিবহন আইন পাস হয়। পাসের প্রায় ১৪ মাস পর গত ১ নভেম্বর থেকে এ আইন কার্যকরের উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে প্রাথমিকভাবে এক সপ্তাহ এ আইনের প্রয়োগ না করার সিদ্ধান্ত হয়। পরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কার্যকারিতা আরো এক সপ্তাহ বিলম্বিত করার ঘোষণা দেন। 
সড়ক পরিবহন আইনটি বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে আইনে সাজার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করায়। মৃত্যুদ-ের মতো বিধানও রাখা হয়েছে এ আইনে। পরিবহন শ্রমিকদের অনেকেই মনে করেন মৃত্যুদ-ের মতো শাস্তি কার্যকর হলে ভয়ে কেউ গাড়িই চালাতে চাইবে না। নতুন আইনে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কারাদ- ও আর্থিকদ- দুটোই বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। আইনের কিছু কিছু ধারার ব্যাপারে পরিবহন সংশ্লিষ্ট তে বটেই সাধারণ মানুষেরও আপত্তি আছে। তারা মনে করেন, এসব ধারা আসলে পুলিশের ‘উপরি’ আয়ের বন্দোবস্ত করা ছাড়া আর কোন কাজে আসবে না। তারা বলেন, সঠিক স্থান মোটর যান পার্কিং না করলে বা নির্ধারিত স্থানে যাত্রী বা পণ্য ওঠানামা না করলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইলে কথা বললে এক মাসের কারাদ- ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। অনেকেরই আশংকা এ দুটো ধারাকে পুলিশ অপব্যবহার করতে পারে, তাদের আয়ের বড় একটি উৎসে পরিণত হতে পারে আইনের এ ধারা। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা তো বটেই সাধারণ মানুষও জিম্মি হয়ে পড়তে পারে।
আইনের কিছু কিছু ধারার প্রশংসাও করেছেন সাধারণ মানুষ। যেমন, গণপরিবহনে নির্ধারিত ভাড়ার চে’ বেশি ভাড়া চাইলে এক মাসের কারাদ- বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দ- দেয়া। তবে অনেকেই বলছেন, এ ধারাটি কিভাবে কার্যকর হবে বা প্রয়োগ করা হবে? রাজধানীর গণপরিবহনের বেশিরভাগেই যাত্রীদের জন্য কোন টিকিট নেই। নেই ভাড়ার নির্ধারিত চার্টও। যদি ভাড়া বেশি নেয়ার জন্য সাজা দিতে হয় তাহলে প্রকৃত ভাড়ার বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত হতে হবে এবং সর্বসাধারণের তা জানাও থাকতে হবে। সড়কে সংঘটিত দুর্ঘটনা ও অনিয়মের বিচার ক্ষেত্রবিশেষে তাৎক্ষণিকভাবে সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছেন অনেকে, এজন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা ও কার্যক্রম বাড়ানোরও পরামর্শ দিয়েছেন তারা। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রচলিত আইনে বিচার হলে যে অপরাধের জন্য সাজা দেয়া হলো তা জনমনে খুব একটা প্রভাব ফেলে না। অথচ আইনের সঠিক প্রয়োগের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হচ্ছে, আইনের দৃশ্যমাণ প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
আমাদের কথা হচ্ছে, রাজধানীসহ সারাদেশের গণপরিবহনে যে নৈরাজ্য চলছে তা অবশ্যই দূর করতে হবে। এ জন্য শক্ত আইনের প্রয়োজন আছে, তবে সে আইন যদি শুধু ‘কাজীর কেতাব’ এ থাকে তাহলে হবে না, তাকে অবশ্যই কার্যকর করতে হবে। আর এ প্রয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে যাতে এ আইন সংশ্লিষ্ট কোন পক্ষের জন্যই হয়রানির কারণ না হয়। নতুন আইন সড়কে কতটা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারবে, বেপরোয়া চালকদের রাশ কতটা টেনে ধরতে পারবে তা নিয়ে মানুষের মনে সন্দেহ থাকতে পারে, সে সন্দেহ দূর করার প্রকৃষ্ট উপায় হচ্ছে আইনের যথাযথ প্রয়োগ। সংশ্লিষ্টরা এ ব্যাপারে যতœবান ও আন্তরিক হবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।