সোমবার, ২১-অক্টোবর ২০১৯, ০৪:১২ অপরাহ্ন

প্রিয় মাতৃভূমি আজ এ কোন দানবদের আখড়া !!!

shershanews24.com

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর, ২০১৯ ১০:০২ অপরাহ্ন

মোহাম্মদ আজিজুল ওয়াদুদ: প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফরে ভারতকে সফরে ফেণী নদীর পানি, গ্যাস মংলা আর চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেয়ায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ( বুয়েট) -এর শের-এ-বাংলা হলের আবাসিক মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদের ফেইসবুক স্ট্যাটাসই ওর জীবন কেড়ে নিলো । আবরার ফাহাদ (২১) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) ছাত্র ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায়।
রোববার গভীর রাতে তাকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে হত্যা করেছে আবরার ফাহাদকে । দেশের পক্ষে কথা বলায় ভারতীয় রাজাকারদের হাতে প্রাণ গেল বুয়েটের দেশপ্রেমিক শিক্ষার্থীর"
ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রাত ৮টার দিকে শেরে বাংলা হলের এক হাজার ১১ নম্বর কক্ষ থেকে আবরারকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর রাত দুইটা পর্যন্ত তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ২ হাজার ১১ নম্বর রুমে নিয়ে তাকে পেটানো হয়।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে রাত ৮টার দিকে ফোন করে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এরপর রাত ৩টার দিকে সিঁড়ির পাশে মিলে তার লাশ। মাঝের এই সাত ঘণ্টায় তার ওপর চলে নির্মম নির্যাতন। ফাহাদের নিথর দেহের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই চোখে পড়ে কেমন নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছেন তিনি। গোটা শরীরে জখমের চিহ্ন, রক্ত জমাট বাঁধা। তলপেটেও রয়েছে আঘাতের চিহ্ন।
হল শাখা ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, ফাহাদকে জেরা ও পেটানোর সময় ওই কক্ষে ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহা, মুজতাবা রাফিদ, ইফতি মোশারফ ওরফে সকালসহ তৃতীয় বর্ষের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিলেন। ওই কক্ষে এসে দ্বিতীয় দফায় ফাহাদকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক ও নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই বর্ষের মেফতাহুল ইসলাম জিয়নসহ কয়েকজন। জানা গেছে, লাথি-কিলঘুষির পাশাপাশি ফাহাদকে ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে নির্দয়ভাবে পেটানো হয়। দফায় দফায় তার ওপর চলে নির্যাতন। একপর্যায়ে নিথর হয়ে গেলে কক্ষ থেকে বের করে দেহ ফেলে রাখা হয় সিঁড়ির পাশে।
ফাহাদের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘তার গোটা শরীরে আঘাতের চিহ্ন পেয়েছি। ব্যথা এবং রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাঁশ, ক্রিকেট স্ট্যাম্প জাতীয় বস্তু দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়েছে। তার হাত, পা এবং পিঠে আঘাতের চিহ্ন ছিল।’
মৃত্যুর ৮ ঘণ্টা আগে ভারতকে সমুদ্র বন্দর, পানি ও গ্যাস দেয়ার চুক্তির বিরোধিতা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ। একটা মেধাবি ছাত্রকে পিটিয়ে মারার জন্যে এটিই কি একটা অপরাধ ! এ' কোন জানোয়ারদের দেশে বাস করছি আমরা ... ...
বুয়েটের হলেই সারারাত নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয় আবরারকে । হত্যার আগের দিন তিনি তার নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি পোস্ট করেছিলেন। আবরারের ফেসবুক পোস্টটি পাঠকদের উদ্দেশ্যে এখানে হুবহু তুলে দেয়া হলো-
১. ৪৭ এ দেশভাগের পর দেশের পশ্চিমাংশে কোন সমুদ্রবন্দর ছিল না। তৎকালীন সরকার ৬ মাসের জন্য কলকাতা বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করল। কিন্তু দাদারা নিজেদের রাস্তা নিজেদের মাপার পরামর্শ দিছিলো। বাধ্য হয়ে দুর্ভিক্ষ দমনে উদ্বোধনের আগেই মংলা বন্দর খুলে দেয়া হয়েছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ ইন্ডিয়াকে সে মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে।
২. কাবেরি নদীর পানি ছাড়াছাড়ি নিয়ে কানাড়ি আর তামিলদের কামড়াকামড়ি কয়েকবছর আগে শিরোনাম হয়েছিল।
যে দেশের এক রাজ্যই অন্যকে পানি দিতে চাই না সেখানে আমরা বিনিময় ছাড়া দিনে দেড়লাখ কিউবিক মিটার পানি দিব।
৩. কয়েকবছর আগে নিজেদের সম্পদ রক্ষার দোহাই দিয়ে উত্তর ভারত কয়লা-পাথর রপ্তানি বন্ধ করেছে অথচ আমরা তাদের গ্যাস দিব। যেখানে গ্যাসের অভাবে নিজেদের কারখানা বন্ধ করা লাগে সেখানে নিজের সম্পদ দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বালাব।
হয়তো এসুখের খোঁজেই কবি লিখেছেন-
‘পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি
এ জীবন মন সকলি দাও,
তার মত সুখ কোথাও কি আছে
আপনার কথা ভুলিয়া যাও।’