সোমবার, ২১-অক্টোবর ২০১৯, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন

নৈতিকতায় ধস!

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৯:২৩ অপরাহ্ন

মহিউদ্দিন খান মোহন: ঘটনা গতকালের । বাহন পরিবহনের একটি বাসে আসছিলাম খিলগাঁও । নটরডেম কলেজ পার হতেই বাসে উঠলেন এক ভদ্রলোক । সাথে সম্ভবত তার মেয়ে । বাসটি টিএন্ডটি কলেজ গেটে চেকপয়েন্টে আসার সাথে সাথে ভদ্রলোক নেমে গেলেন। চেকার যাত্রীসংখ্যা গুণে ওয়েবিলে সই করার পর তিনি আবার উঠলেন ।
এবার ভাড়া নিয়ে কন্ডাক্টরের সাথে শুরু হল বচসা।
চেক পয়েন্টের আগে থেকে যাত্রীভাড়া পনের টাকা। তবে চেকিংয়ের পরে উঠলে ভাড়া নেয়া হয় দশ টাকা। এ টাকা কোম্পানি পায় না। ড্রাইভার - কন্ডাক্টরের পকেটে যায় । এখন ভদ্রলোক ভাড়া দিবেন দশ টাকা। কন্ডাক্টর পনেরো টাকার কম নেবে না। বাবা-মেয়ে দুজনের ত্রিশ টাকা। তিনি কুড়ি টাকার বেশি দিবেন না। তার এক কথা-আমি চেকের পরে উঠেছি।
তুমুল তর্ক । আমি বললাম, আপনার মেয়ে বাসেই ছিল। আর আপনি নেমে আবার উঠেছেন। এটাতো প্রতারণা । ক্ষেপে গেলেন ভদ্রলোক । অশালীন ভাষায় আক্রমণ করলেন আমাকে। আমি উনার কথার জবাব দেয়ার আগেই এক যুবক বলল- আংকেল তো ঠিক বলেছেন। আপনি দুর্নীতি করলেন। তর্কযুদ্ধের এক পর্যায়ে বললাম -এটা আপনার দোষ নয়,আমাদের নৈতিকতার অধঃপতনের প্রমাণ । আপনি দশ টাকার জন্য শঠতার আশ্রয় নেন, আর কেউ সাইত্রিশ লাখ টাকায় পর্দা কিনে টাকা আত্মসাৎ করে। দুটোই দুর্নীতি । শুধু টাকার অঙ্কে পার্থক্য ।
কন্ডাক্টর ছেলেটিকে বললাম- কী আর করবি। আজ দশ টাকা কম দুর্নীতি করতে পারলি। কাল আবার পুষিয়ে নিস।
যে জাতির একজন সদস্য দশ টাকার জন্য প্রতারণার আশ্রয় নেয়, সে জাতির ভবিষ্যৎ ভেবে ঘুম হারাম করে কী লাভ?